Published : 01 Aug 2026, 04:44 PM
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় স্কুলের আঙিনায় এক ছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান ও মানসিক চাপে ওই ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের। বর্তমানে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার দুপুরে উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার ওই ছাত্রী ও যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গিয়েছিল এমন দাবি তোলেন স্থানীয় কয়েক যুবক। তার জের ধরে সোমবার ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং যুবককে তার বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনা হয়। পরে বিদ্যালয়ের একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের বেঁধে রাখা হয়।
পরে ছাত্রী ও যুবককে বিভিন্নভাবে অপমান করা হয় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল চলাকালে তাদের জোর করে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার পর গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এরপর সেখানে জড়ো হওয়া লোকজনের সামনে তাদের নানা প্রশ্ন করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার, স্থানীয় যুবক জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং সামাজিক অপমানের কারণে ছাত্রীটি বিষপান করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সময় স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ওই শিক্ষার্থী সেদিন স্কুলে আসেনি। আর ঘটনার সময় শিক্ষকরা ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। গেটের পাশের ওই জায়গা থেকে স্কুল অফিসের দূরত্ব অনেক। সে কারণে শিক্ষক ও কর্মচারীরা ঘটনাটি টের পাননি।
“পরে নয়ন গোলদার তাদের নিয়ে স্কুলের অফিসে আসেন। অভিভাবকদের কাছে তাদের দুজনকে হস্তান্তর করেন।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয়দের দাবি স্কুল ড্রেস পরে ওই ছাত্রী রাহুথর থেকে হাতিয়াড়া গ্রামে যায়। সেখানে এক যুবকের সাথে কথা বলে। এ সময় তাকে ওই যুবকসহ ধরে এনে স্কুলের গেটের পাশে গাছের সাথে বেঁধে রাখে যুবকরা।
“তবে স্কুল ছাত্রীকে ধরে আনার আগে কি ঘটনা ঘটেছিল তা আমার জানা নেই। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেছি।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন বলেন, “ঘটনার দিন আমি স্কুলে ছিলাম না। পরে ঘটনাটি শুনেছি। স্কুলের সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি বাড়িতে আসছেন। তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে নয়ন গোলদার বলেন, “আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েকজন যুবক তাদের আমার বাড়ির পাশ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।”
কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিম এ ব্যাপারে শনিবার বলেন, “নয়ন গোলদার আমাকে বলেছে, সে ওই ছেলে ও মেয়েকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আমি আজ (শনিবার) ওড়াকান্দি যাচ্ছি। পরে হাতিয়াড়া ইউনিয়নে যাব।
“যেহেতু নয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, আমি বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখব। তারপরে আপনাদের (সাংবাদিক) বিষয়টি সম্পর্কে জানাতে পারবো।”
কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”