সাভারে ট্যানারিতে লবণযুক্ত চামড়া সংগ্রহ শুরু
ঢাকার সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর ট্যানারিতে লবণযুক্ত চামড়া সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অল্প সংখ্যক লবণযুক্ত চামড়া এসেছে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকার এই ট্যানারিতে। এখন সংগ্রহের কাজ পুরোপুরি শুরু না হলেও শনিবার/রোববার থেকে পুরোদমে শুরু হবে।
দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়ৎদার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লবণযুক্ত চামড়া ধাপে ধাপে কেনা হবে বলে ট্যানারি মালিকরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এবার তারা এক কোটি চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। ইতোমধ্যে ঈদের তিন দিনে প্রায় চার লাখ কাঁচা [লবণ ছাড়া] চামড়া সংগ্রহ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, চামড়া কম আসায় ব্যস্ততা নেই শ্রমিকদের। কাজের ব্যস্ততা না থাকায় অলস সময় পার করছেন তারা। কেউ চায়ের দোকানে, কেউ বা ট্যানারির ভেতরে গল্পে মেতেছেন।
এ সময় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতা, চামড়া শিল্প নগরী কর্মকর্তা, ট্যানারি মালিক, শ্রমিকসহ কয়েকজনের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কথা হয়।
তিনি বলেন, করোনা মহামারীর কারণে গত বছর কোরবানিতে পশু জবাই কম হওয়ায় চামড়ার সংখ্যা কমছিল। দামও কম ছিল। এ বছর কোরবানিও অনেক বেশি হয়েছে; পাশাপাশি চামড়ার দামও ভালো যাচ্ছে। গত বছর যেসব চামড়ার দাম ছিল ৬০০ টাকা এবার সেসব চামড়ার দাম সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা হয়েছে। এছাড়া এবার চামড়া বিভিন্ন জেলা থেকে আলাদা আলাদা সময়ে আসবে। ফলে আলাদা আলাদা ধাপে চামড়া প্রক্রিয়াজাত হবে। একসঙ্গে চাপ পড়বে না।
এবার এক কোটি চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার কথা জানিয়ে সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, “ইতোমধ্যে ঈদের তিন দিনে প্রায় চার লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছে ট্যানারিগুলো।”
চামড়া শিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান বলেন, ১৬২টি ট্যানারির মধ্যে ১৩৯টিতে চামড়া এসেছে। ট্যানারিগুলোর মালিকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণসহ মজুদ রেখেছেন সব ধরনের কেমিকেল। এছাড়া ট্যানারিতে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তা পরিদর্শন করছেন প্রতিনিয়ত। যাতে কাঁচা চামড়া নিয়ে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এএস লেদার এক্সপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, “ট্যানারির পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো। তবে পরিবেশ দূষণের শঙ্কা রয়েছে। আমাদের ট্যানারিতে রিজার্ভ ট্যাংক করা হয়েছে, যাতে বর্জ্য পানি ২/৩ দিন ধরে রাখতে পারি।”
ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখন তেমন চামড়া নেই; তাই শ্রমিকদের কাজের চাপ নেই। পাশাপাশি তেমন বর্জ্যও নেই। তবে কদিন পর সারাদেশ থেকে চামড়া আসা শুরু করলে তখন পরিস্থিতি কী হবে তা এই মুহূর্তে বলা কঠিন।
এদিকে চামড়া শিল্পনগরের ডাম্পিং ইয়ার্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চামড়ার কঠিন বর্জ্য ফেলার জন্য সেখানে গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ট্যানারির কঠিন বর্জ্য সেসব গর্তে ফেলা হচ্ছে। আর এভাবে উন্মুক্ত স্থানে এসব বর্জ্য ফেলায় সেখানকার বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ।
ট্যানারি শ্রমিক সাইফুল, রহিমসহ অনেকেই বলেন, এখন কাজের চাপ তেমন নেই। তবে শনিবার থেকেই আবার চামড়া আসা শুরু করবে, তখন কাজের চাপও বেড়ে যাবে।
সাইফুল বলেন, “ট্যানারির কঠিন বর্জ্য – যেমন কাঁচা চামড়ার কাটা অংশ মাথায় করে নিয়ে আমাদের দূরে বিসিক ডাম্পিংয়ে ফেলতে হয়। সেখানেও জায়গা নেই। যতটুকু জায়গা করেছে তা অনেক কম। ময়লার চাপে সেখানকার দেওয়াল দুইবার ভেঙে গেছে। পরে সেই বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে পড়ে দূষিত হয় নদীর পানি।”
