হল ছাড়ার নির্দেশে কুয়েট শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পর হল ত্যাগের নির্দেশে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

খুলনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Dec 2021, 04:23 PM
Updated : 3 Dec 2021, 04:31 PM

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সিন্ডিকেট সভা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত আসার পর আবাসিক শিক্ষার্থীদের বিকাল ৪টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসের বাসায় শৌচাগারে অচেতন হয়ে পড়ার পর ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রভোস্ট সেলিমকে হাসপাতালে নেওয়া হয়; সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার বিকাল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও দুপুর থেকে ১/২ জন করে ছাত্রছাত্রী ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে শুরু করেন। বিকাল ৪টার মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছেড়ে যান।

তবে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার পর বাড়ি ফেরার টিকিট সংগ্রহসহ নানা কারণে তারা ভোগান্তিতে পড়েন।

শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে নগরীর ফুলবাড়িগেট এলাকায় গিয়ে অনেকেই দূর-দূরান্তের বাসের টিকিট পাচ্ছেন না।

দুই ছাত্রী রুমানা পারভীন ও শিউলী আক্তার বিকাল সাড়ে ৪টায় বলেন, তারা দুইজন ময়মনসিংহ যাবেন, কিন্তু কোনো বাস পাননি।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বিভাগের শিক্ষার্থী সোহরাব হোসেন বলেন, “আমার বাড়ি দিনাজপুর। ট্রেনের টিকিট নেই। কীভাবে বাড়ি যাব বুঝতে পারছি না। আজ  বন্ধুর মেসে থাকার চিন্তা করছি।”

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আর রফি ও মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “করোনার কারণে দীর্ঘদিন আমাদের ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল। এখন আবার ক্যাম্পাস বন্ধ করায় আমাদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হবে।”

ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যু নিয়ে কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেটের সভা আহ্বান করা হলেও তা মুলতবি করা হয়। পরে শুক্রবার সকাল ১০টায় ফের সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আনিসুর রহমান ভূঁঞা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৮তম জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কারণে ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

একই সঙ্গে বিকাল ৪টার মধ্যে আবাসিক ছাত্রছাত্রীদের হলগুলো ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হলো বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুতে কুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার ১০টা থেকে ১ ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা।

এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকরা কালোব্যাজ ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এর আগে বুধবার থেকে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছেন।

অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুর পর একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। সেখানে তাকে অনুসরণ করে কয়েকজন ছাত্রকে তার কক্ষে যেতে দেখা গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে একদল ছাত্র ক্যাম্পাসের রাস্তায় অধ্যাপক সেলিমকে জেরা করেন। পরে তাকে অনুসরণ করে তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে তার কক্ষে যায়। তারা আধা ঘণ্টার মতো অধ্যাপক সেলিমের সঙ্গে ছিলেন এবং পরে অধ্যাপক সেলিম বের হয়ে বাসার দিকে যান।

অধ্যাপক সেলিমের কক্ষে ওই ছাত্ররা তাকে লাঞ্ছিত করে থাকতে পারেন, যা তাকে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় বলে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

অধ্যাপক সেলিমকে বুধবার রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রামে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক