Published : 04 Oct 2025, 01:29 PM
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় সীমান্তবর্তী গ্রামে প্রায় পাঁচ একর জমির আমন ধান খেয়ে বা মাড়িয়ে নষ্ট করেছে হাতির দল। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমশ্চূড়ার ঝোরাপাড়া গ্রামে বন্যহাতির এই তাণ্ডবের পর থেকে ক্ষেতের পাশেই রাত কাটাচ্ছেন বলে শনিবার সকালে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বন্যহাতির দল পাহাড় থেকে নেমে এসে আমার প্রায় দুই একর আমন ধানের ফসল নষ্ট করেছে। প্রতি মৌসুমেই বন্যহাতির দল এভাবেই আমাদের ক্ষেতের ধানসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট করছে। আমরা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।”
কৃষাণী জুলেখা বেগম বলেন, “ঋণ করে পৌনে দুই একর জমি আবাদ করেছি। এখন সব ধান হাতি নষ্ট করে দিয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আমি কীভাবে চলবো ভেবে কোনো কুলকিনারা পাচ্ছি না। এখন সরকার যদি সাহায্য করে, তবেই বাঁচতে পারব।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় প্রায় ৩০ থেকে ৩২টি বন্যহাতির একটি দল অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার রাতে তারা গ্রামে প্রবেশ করে ধান ক্ষেতে হামলা চালায়। এতে প্রায় ৫ একর জমির ধান নষ্ট হয়।
মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত পরিদর্শন করে কৃষকদের তালিকা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।
“প্রায় ১৪ থেকে ১৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা আবেদন করলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন।”
বনবিভাগের লোকজন এবং হাতি রেসপন্স টিমের সদস্যদের নিয়ে কৃষকের ক্ষেতের ফসল রক্ষার জন্য চেষ্টা করছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বন্যহাতির দল ফের ফসলের ক্ষেতে নামতে পারে। তাই শুক্রবার রাতেও আমরা ওই এলাকায় অবস্থান করেছি। তবে হাতির দল না নামায় কোনো ক্ষতি হয়নি।”