Published : 22 May 2026, 07:16 PM
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জামালপুর থেকে ৪০০ কোরবানির পশু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়েছে প্রথম ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন। এ ছাড়া আরও দুই ট্রেন ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শুক্রবার বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেনটি ছাড়ে বলে জানিয়েছেন ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া।
তিনি বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে খামারি ও পাইকারদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ২০২০ সালে পশু পরিবহনের জন্য প্রথম ক্যাটল ট্রেন চালু করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে এ অঞ্চলের খামারি ও পাইকাররা কোরবানির পশু বিক্রির জন্য ট্রেনে করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন।
এ বছর জামালপুর থেকে ঢাকায় পশু নেওয়ার জন্য তিনটি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন বরাদ্দ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি ট্রেনে ২৫টি করে মোট ৭৫টি ওয়াগন রয়েছে। প্রতিটি ওয়াগনে ১৬টি পশু পরিবহন করা যায়; যার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা।
জামালপুর থেকে ৭৫টি ওয়াগনের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ২০০টি কোরবানির পশু ঢাকায় পরিবহন করা হবে। প্রথম ট্রেনটি বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। ট্রেনটি মধ্যরাতে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছাবে।
এরপর বিকাল ৬টার দিকে ২৫টি ওয়াগানে করে আরও প্রায় ৪০০ কোরবানির পশু নিয়ে দ্বিতীয় ক্যাটল ট্রেন ও শনিবার বিকাল ৬টায় ২৫টি ওয়াগনে চারশত পশু নিয়ে তৃতীয় ক্যাটল ট্রেন ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ার কথা রয়েছে।
ট্রেনটিতে থাকা পশুগুলো ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, তেজগাঁও ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নামাবেন খামারি ও পাইকাররা। এরপর ঢাকার বিভিন্ন হাটে এসব পশু নেওয়া হবে। এতে প্রতিটি ট্রেনের জন্য রেলওয়ে ভাড়া পাবে দুই লাখ টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকা।
স্টেশন মাস্টার জানান, এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রেনের সবগুলো ওয়াগনের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। সড়ক পথের চেয়ে ট্রেনে পশু পরিবহনে খরচ কম ও নিরাপত্তা বেশি থাকায় খামারি ও পাইকারদের এমন সারা পাওয়া গেছে।
গরু খামারি নাজমুল মিয়া বলেন, “অতি যত্নে লালনপালন করা গরুগুলো স্থানীয় বাজারে চাহিদা মত দাম পাই না। এজন্য ভালো দামের আশায় গরুগুলো ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি। এখানে গরু অনেক বেশি তাই আরও ট্রেন দরকার।”
অনেক বছর ধরে গরুর ব্যবসা করেন ইসলামপুরের বাসিন্দা শাহ আলম। তিনি বলেন, “এ বছর ১৬টা গরু নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। সাত বছর আগে ট্রাকে করে ছয়টা বড় গরু ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে গাজীপুরে ডাকাতি হয়।
“সেই সময় ডাকাতরা গরুগুলো নিয়ে গেলে প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতি কয়। এরপর ট্রেন চালু হওয়ায় প্রতিবছর নিরাপদে ঢাকায় গরু নিয়ে যাই।”
ইসলামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন আব্দুল আলিম বলেন, ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার আগে গরুগুলোকে চিকিৎসা দিতে স্টেশনে একটি টিম কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো গরু অসুস্থ হয়নি। তারপরও প্রাথমিকভাবে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ক্যাটল ট্রেন বুকিং কার্যক্রম শুরু হয়। তবে মাত্র তিন দিনে মধ্যে সবগুলো ওয়াগন বুকিং হয়ে যায়।
“দুপুর থেকে খামারিরা তাদের গরু ট্রেনে তোলা শুরু করেন। সবগুলো পশু নিরাপদে ট্রেনে তোলা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করছি গরুগুলো নিরাপদে ঢাকা পৌঁছাবে”, বলেন তিনি।