ইউরোপিয়ান যুদ্ধের খেসারত দিচ্ছি: তৌফিক-ই-ইলাহী

জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম যতদিন থাকবে আমাদের সামনে ততদিন বিরাট চ্যালেঞ্জ থাকবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2022, 01:58 PM
Updated : 2 August 2022, 01:58 PM

ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে তিতাসের আওতাধীন এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎ সংকটে সরকারের কোনো হাত নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের কোন হাত নেই, ইউরোপিয়ানদের হাত আছে। জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম যতদিন থাকবে আমাদের সামনে ততদিন বিরাট চ্যালেঞ্জ থাকবে। কারণ আমাদের আয়ের মধ্যে থাকতে হবে, আমরা তো আর ইউরোপ না।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে এ সংকট মোকাবেলায় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, “আমাদের বিরাট গ্যাস সংকট চলতেছে। এটা কিন্তু আমাদের তৈরি না। ইউক্রেইন যুদ্ধ না লাগলে, আকাশচুম্বী দাম না থাকলে আপনারা টেরও পেতেন না। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বা গ্যাসের কোনো অভাব হতো না। ইউরোপিয়ান যুদ্ধের খেসারত আমরা দিচ্ছি।

“বাড়তি দাম কতদিন থাকবে বলতে পারি না। যারা যুদ্ধ চালাচ্ছে তারাই বলতে পারবে। এ যুদ্ধ অস্ত্র বিক্রি নাকি তেলের দাম বাড়াতে চলছে, জানি না। আমরা ছোট দেশ। নিজেকে গুছিয়ে রেখে মিতব্যয়ী হলে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ হব।”

আমদানি কমাতে সীমিত আকারে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “আগে যা ৫ ডলার দিয়ে কিনেছি সেটা এখন ৩০ ডলার। মানে জ্বালানির দাম ৬ গুণ বেড়ে গেছে। কয়লার দাম ২-৩ গুণ বেড়েছে। মূলত গ্যাস, ফার্নেস অয়েল আর ডিজেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চলে। ডিজেলের দাম কমবে না। তাই কয়লা দিয়েও আমরা কিছু কাজ শুরু করছি।”

অবৈধ সংযোগ বন্ধের উদ্দেশ্যে তিতাস নারায়ণগঞ্জের ১৫টি স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। ক্যামেরা থাকার কারণে অবৈধ সংযোগ প্রদানকারীকে চিহ্নিত করা যাবে বলে মন্তব্য করেন তৌফিক-ই-ইলাহী।

তিনি সকলকে সময়মতো বিল প্রদান ও কোনোরকম বেআইনি কাজ না করার অনুরোধ জানান।

অবৈধ সংযোগ কমাতে পারলে বৈধদের বেশি সুবিধা দেওয়া যাবে, বলেন তিনি।

“শিল্প ও কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। প্রধানমন্ত্রী বাড়ির কাছে জায়গা থাকলে কিছু ফলাতে বলেছেন। এটা অনেক দার্শনিক একটা ব্যাপার। খাদ্যশস্যে এ কারণেই আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের সামর্থ্যের ব্যবহার ভালোভাবে করতে পারলে শিল্প ও কৃষি বাঁচবে। এগুলো বাঁচবে আমাদের জীবনের মান উন্নয়ন হবে।”

তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, “টক শোতে কথা বলা জ্ঞানী-গুণীদের মতো জ্ঞান আমাদের নেই। তারা অনেক জ্ঞান রাখেন, আমরা অল্প বুঝলেও এতটুকু বুঝি যে প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এখন গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে; কিন্তু কয়লার প্রজেক্ট আসবে। রামপাল, পায়রা, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসবে। পরিবেশবাদীরা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিতে বলে। এরা কাদের হয়ে কথা বলে? জার্মানিতে পুরোনো কোর-পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু করেছে। তাদের চেয়েও উন্নতমানের পাওয়ার প্ল্যান্ট আমাদের। আমেরিকা এ ধরনের প্ল্যান্ট বাড়াচ্ছে। বিলাতে বন্ধ করে দিছিল, তারাও চালু করেছে। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের কথাবার্তা যারা বলে তারা দেশকে পঙ্গু করার চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা – তা হতে দেওয়া যাবে না। আমরা দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করছি।”

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “২০০৯ সালে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো; এখন ১২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে। এত সীমাবদ্ধতার পরও তিন থেকে চারগুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। অথচ বিএনপি মায়াকান্না করছে আর বামপন্থীরা লণ্ঠন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”

পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর পেটে লাথি মারছে এবং এটা তাদের ষড়যন্ত্র বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান, তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাব্যবস্থাপক সৌমেন বড়ুয়াসহ তিতাসের আঞ্চলিক কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক