Published : 03 Jan 2026, 11:59 AM
নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই ভারতে যাতায়াতকারী পাসপোর্ট যাত্রীদের উপর ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ (পিইউসি)’ আদায় শুরু করেছে দেশটির পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এতে ২০০ থেকে ৫০০ রুপি খরচ বেড়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী পাসপোর্ট যাত্রীদের।
ভারত সরকারের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (ল্যান্ড পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া-এলপিএআই) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) পেট্রাপোল বন্দরের ম্যানেজার কামলেশ সাইনি স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানানো হয় বলে জানিয়েছেন পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী জিএসটিসহ নির্ধারিত যাত্রী পরিষেবা ফি হিসেবে ভারতীয় ও বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে ২০০ রুপি এবং তৃতীয় দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে ৫০০ রুপি বা ৫ মার্কিন ডলার আদায় করা হচ্ছে।
তবে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়ে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ রুপি। এছাড়া ভারত সরকারের তালিকাভুক্ত সরকারি কিছু নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাকে এ ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পেট্রাপোল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিষেবার মান আরও উন্নত ও গতিশীল করতেই এ চার্জ চালু করা হয়েছে।
একইসাথে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল বুকিং ব্যবস্থা। যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামত মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে মোবাইল নম্বর বা ইমেল অ্যাড্রেসের মাধ্যমে লগ ইন করে ‘স্লট বুক’ করতে পারবেন।
এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড প্লেস্টোর এবং আইওএস স্টোর উভয় প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ করা যাবে। এছাড়াও রেজিস্ট্রেশনের জন্য কিউআর কোড স্ক্যান করার সুবিধাও থাকছে।
এদিকে নতুন এ সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সামনে পাসপোর্ট যাত্রী রোমানা খাতুন বলেন, “নতুন বছরের শুরুতে আমরা আশা করেছিলাম ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ভিসা জটিলতা নিরসন হবে এবং ট্যুরিস্ট ভিসাসহ সব ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে কিন্তু তার বদলে নতুন করে ভারত-বাংলাদেশী পাসপোর্টযাত্রীদের ওপর ২০০ রুপি ফি আরোপ করায় হতাশা বেড়েছে।”
ভারতগামী যাত্রী আব্দুর রহিমসহ একাধিক যাত্রী বলেন, ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে এর আগে তারা কোনো চার্জ নিতো না। এখন এই ট্যাক্স চালু হওয়ায় পাসপোর্টযাত্রীদের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। ভারত-বাংলাদেশ স্থলপথে যাতায়াতকারী সব যাত্রীকেই এখন অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।
অবশ্য বাংলাদেশ সরকার দফায় দফায় ট্রাভেল ট্যাক্স বাড়িয়ে সর্বশেষ যাত্রী প্রতি এক হাজার টাকা এবং পোর্ট ট্যাক্স ৫৬ টাকা নির্ধারণ করে। তারসঙ্গে ভারত সরকার নতুন করে ২০০ রুপি পোর্ট ট্যাক্স আরোপ করায় বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য এটি নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা ফারহাদ হোসেন বলেন, “ভারত থেকে আসা অনেক যাত্রীর কাছ থেকে নতুন করে এটা ভারতীয় ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি ‘প্যাসেঞ্জার ইউজার চার্জ’ এর ফি হিসেবে আদায় করছে। আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি।”