২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

লিবিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ, টাঙ্গাইলের যুবক গ্রেপ্তার

উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে এক যুবককে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় গত বছরের ৭ মার্চ লক্ষ্মীপুর আদালতে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

লিবিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ, টাঙ্গাইলের যুবক গ্রেপ্তার
ঢাকার সূত্রাপুর এলাকা থেকে আটক রিফাত হোসেনকে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Nov 2025, 10:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:36 PM

লিবিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে টাঙ্গাইলের এক যুবককে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। 

মঙ্গলবার বিকালে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান নোয়াখালী পিবিআইয়ের এসআই মো. ফরিদ উদ্দিন।

কারাগারে যাওয়া খন্দকার রিফাত হোসেন (২৮) টাঙ্গাইলের বাসাইল থানার খন্দকার রমজানের ছেলে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রিফাতকে রাজধানীর সূত্রাপুর থানার বেগমগঞ্জ লেন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

পিবিআই জানায়, লিবিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রিফাত লিবিয়ায় একটি চক্রের হয়ে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসআই ফরিদ উদ্দিন বলেন, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে লিটন হোসেন ওরফে সুমন লিবিয়াতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য তিনি ৭২ হাজার দিনার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫ লাখ টাকা) জমা করেন। 

তিনি বলেন, এর মধ্যে রিফাত ও আরেকজন লিবিয়া প্রবাসীর সঙ্গে লিটনের পরিচয় হয়। লিটনের কাছে দিনার থাকার বিষয়টি জানতে পারেন রিফাত। পরে লিবিয়া ও পাকিস্তানি চক্রের সহায়তায় লিটনকে ২০২৪ সালের ২৭ জানুয়ারি অপহরণ করেন রিফাত। সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করে ৭২ হাজার দিনার লুট করা হয়।

এমনকি লিটনকে নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ করে হোয়াটসঅ্যাপে বাংলাদেশে তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেই সময় বাংলাদেশি একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরে মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেন রিফাত। 

পরে এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী লিটনের মামা মো. আনোয়ার হোসেন। মামলায় লিবিয়ায় থাকা রিফাতের শাশুড়ি ঢাকার সূত্রাপুরের বাসিন্দা আনু আক্তার ও তাদের আত্মীয় দিদার হোসেনসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনের আসামি করা হয়।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশ মামলাটি তদন্ত শুরু করে নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে অপহরণের দুই মাস ২০ দিন পর লিটনকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।

এসআই ফরিদ উদ্দিন বলেন, “ঘটনার মূলহোতা রিফাত গত ১৩ মে বাংলাদেশে এসে আত্মগোপনে চলে যান। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়। রিফাত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।”

পরে অপহরণ মামলায় রিফাতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা।