Published : 16 Sep 2025, 07:22 PM
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া বিলীন হয়ে গেছে বিদ্যালয়ের ৩০ শতাংশ জমিও।
বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি নদীতে বিলীন হওয়ায় বন্ধ রয়েছে পাঠদান কার্যক্রম।
সোমবার বিকালে উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের ১৫১ নম্বর উত্তর মাথাভাঙা মান্নান সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি নদীতে ধসে যায় বলে জানান ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু আবদুল্লাহ খান।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, কাচিকাটা ইউনিয়নের বেশিরভাগ অংশ পদ্মা নদীর চরে অবস্থিত। এর একদিকে মুন্সীগঞ্জ ও আরেক দিকে চাঁদপুর জেলা। এলাকাটির চারপাশ দিয়ে পদ্মা নদী প্রবাহিত হয়েছে।
ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মাথাভাঙা চরবানিয়াল গ্রামে প্রায় চারশত পরিবারের বসবাস। গ্রামটিতে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না। ২০১৭ সালে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করে সরকার। পরের বছর ২০১৮ সাল থেকে বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালু করা হয়।
একতলা একটি পাকা ভবনের চারটি কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলছিল। সোমবার বিকালে বিদ্যালয় ভবনের একটি অংশ নদীতে ভেঙে পড়ে।
অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, ২০২৩ সালে বিদ্যালয়টি পদ্মার ভাঙন ঝুঁকিতে পড়ে। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করে। চলতি বছরের জুনে সেই বালুর বস্তা নদীতে ভেসে গেছে।
তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভবনটি রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ভেদরগঞ্জ ইউএনও ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে চিঠি দেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষার কোনও উদ্যোগ নেয়নি।
বিদ্যালয় ভবনটি ভাঙনের মুখে পড়লে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। রোববার বিদ্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
উত্তর মাথাভাঙা এলাকার বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, “নৌপথ ছাড়া আমরা যাতায়াত করতে পারি না। পূর্বে এলাকায় কোনও বিদ্যালয় না থাকায় আমরা পড়ালেখা করতে পারিনি।
“ছয় বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা হচ্ছিল। আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখা করছিল। এখন সেটিও পদ্মায় ভেঙে গেল। এখন আমাদের সন্তানেরা কোথায় পড়ালেখা করবে?”
কাচিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জসিম উদ্দিন খান বলেন, ওই বিদ্যালয়ের জন্য যারা জমি দিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অন্যত্র জমি দিতে রাজি হলে সেখানে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু করা হবে। সে পর্যন্ত কিছুদিন পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, “এখন কোথায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু করা হবে তা বলা যাচ্ছে না। শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।”
ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুজাহিদ বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি ভাঙনের কবলে পড়ার কারণে আপাতত পাঠদান বন্ধ রয়েছে। যিনি বিদ্যালয়ের জমিদাতা, তিনি অন্য একটি স্থানে জমি দিতে চেয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হবে।”
ইউএনও আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, “বিদ্যালয় ভবন ভাঙনের কবলে পড়ার পর উপজেলা পরিষদের একটি সভা হয়েছিল। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাউবোকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এর মধ্যে ভবন বিলীন হয়ে গেছে।”
পাউবো শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক হাসান বলেন, কাচিকাটা এলাকার সাড়ে তিন কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। সেটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
তবে ভাঙন রোধে ওই বিদ্যালয়টির জন্য আলাদা কোনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে জানান পাউবোর এই কর্মকর্তা।