২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩

কানের দুল-জমানো টাকার জন্য বৃদ্ধাকে হত্যা করে ছোটভাই: পুলিশ

মানুষের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন হালিমা বেগম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Oct 2026, 05:34 PM

Updated : 21 Oct 2026, 05:34 PM

নওগাঁর ধামইরহাটে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার ছোটভাই-ভাইয়ের বৌসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কানের স্বর্ণের দুল, জমানো টাকা ও সামান্য সম্পদের জন্য তারা ওই নিঃসন্তান বৃদ্ধাকে হত্যা করেছে বলে দাবি পুলিশের।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

নিহত ৬৫ বছরের হালিমা বেগম ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬), তার স্ত্রী হোসনে আরা (৪২), রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫) এবং মোশারফ হোসেনকে (৪৫)। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে।

এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালে ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের এক বাঁশঝাড়ের পাশে ধানী জমির আইলে হালিমা বেগমের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, বৃদ্ধার একটি কানের লতি কাটা ও অন্যটি ছেঁড়া অবস্থায় রয়েছে। ঘটনার পরপরই ধামইরহাট থানায় একটি মামলা করা হলে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে মজনু ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আলমপুর ও ছিলিমপুর এলাকা থেকে বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, স্বামী চলে যাওয়ার পর হালিমা বেগম তার বাবার বাড়িতে ছোট ভাই মজনুর ঘরের পেছনে একটি ছাপড়া ঘরে বসবাস করতেন। তার হালিমার জমানো টাকা ও গবাদিপশুর প্রতি মজনু ও তার স্ত্রীর লোভ ছিল।

এর পাশাপাশি মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় রবিউল এবং জমিজমা সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের কারণে হামিদুর ও মোশারফ হালিমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এসব কারণে ঘটনার পাঁচদিন আগে তারা হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

এসপি আরও বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আসামি হামিদুর কৌশলে হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করে। পরে আসামিরা তার মুখ চেপে ধরে খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে বৃদ্ধার হাত রশি দিয়ে বেঁধে পরিহিত ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

এরপর কানের সোনার দুল খুলে নেওয়ার জন্য হামিদুর বৃদ্ধার এক কানের লতি কেটে ও অপর কানের লতি ছিঁড়ে ফেলে। পরে দুল দুটি ভাগ বাটোয়ারা করে তারা পালিয়ে যায়

আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।