Published : 01 Apr 2026, 10:33 AM
পটুয়াখালীর বাউফলের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে তরমুজ চাষের জমি নিয়ে বিরোধে স্থানীয়দের পিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন।
মঙ্গলবার বিকালে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম।
নিহত উজ্জল কর্মকার (৪০) উপজেলার কালাইয়া বন্দরের অজিৎ কর্মকারের ছেলে।
আহতরা হলেন, চরওয়াডেল গ্রামের বাসিন্দা ও তরমুজ চাষী মো. ফিরোজ গাজী (৪০), বড় ডালিমা গ্রামের মিজানুর রহমান (৪৫) এবং মিজানুরের সহযোগী শামীম।
ওসি সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিরোধীয় জমিটিতে তরমুজ চাষ করেছেন ফিরোজ গাজী। তার দাবি তিনি ফয়সাল ও সবুজ নামে দুজনের কাছ থেকে জমিটি তরমুজ চাষের জন্য একসনা লিজ নিয়েছেন।
অন্যদিকে মিজানুর রহমানের দাবি, জমিটি তার বাবার নামে কার্ডের জমি। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ফিরোজের কাছে জমির ফয়সালা করে তরমুজ কর্তনের কথা বলে আসছেন।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকালে ফিরোজ ক্ষেত থেকে তরমুজ ট্রলারে তুলছিলেন। এ সময় মিজানুরের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা তাতে বাধা দেন।
কিন্তু চাষী ফিরোজ তরমুজের ভাগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে মিজানুর ও তার লোকজন।
এ সময় ফিরোজের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মিজানুর, উজ্জল ও শামীমকে ধরে পিটুনি দিয়ে চন্দ্রদ্বীপের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করে।
আহত অবস্থায় তাদের ট্রলারে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে উজ্জলের মৃত্যু হয়। পরে ফিরোজ, মিজানুর, শামীমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য নয়। ওই জমি তাঁদের। জমির ফয়সালা করে তরমুজ কাটতে বলায় কৃষক ফিরোজ ও তার লোকজন তাদের ওপর হামলা করে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং উজ্জলকে হত্যা করেন।
ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত উজ্জলের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।