২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯ কার্তিক ১৪৩৩

২০ বছর পর আলোর মুখ দেখল গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতাল

“মানুষের এখন এখান থেকে চিকিৎসা দরকার। আমরা চাই এটা যেন দ্রুত পুরোদমে চালু হয়।”

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Feb 2026, 04:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

দীর্ঘ দুই দশক পর অবশেষে আলোর মুখ দেখলো কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতাল।

বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুইয়া।

বর্তমানে হাসপাতালটির বহির্বিভাগ বিভাগ চালু করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় রোগীরা এখন থেকে নিয়মিতভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন।

উদ্বোধনকালে মোবাশ্বের আলম বলেন, “আমার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিলো এই হাসপাতাল চালু করা; আমি সে দায়িত্ব পালন করেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা আমাকে সহযোগিতা করছে। আমার এলাকার মানুষ উপকার পাবে এটাই আমার শান্তি।”

এ সময় নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জয়নাল আবেদীন, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল খায়ের, আরএমও ওমর কাইউয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

২০০৬ সালে তৎকালীন সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান এই হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। ঘটা করে উদ্বোধনের পর দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়েছিল এই সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।

হাসপাতালটির কার্যক্রম আবার চালু হওয়ার মাধ্যমে কুমিল্লা ও ফেনী জেলার তিন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যকষ্ট লাঘবের নতুন আশা সঞ্চার হলো।

হাসপাতাল উদ্বোধনের পর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা গোহারুয়া এলাকার বাসিন্দা পান্না আক্তার বলেন, “আমার মেয়েকে নিয়ে এসেছি। ডাক্তার দেখাতে হলে কমে ২০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। রাতের বেলা এই এলাকার মানুষের আরো বেশি সমস্যা।”

নানা রাজনৈতিক কারণে এই সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিলো বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এমন একটি হাসপাতাল যা কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ এবং ফেনীর সেনবাগ উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

মানিকমুড়া এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “এত সুন্দর একটা হাসপাতাল এতদিন পড়ে আছে। দোষ হলো, এটা বিএনপি বানিয়েছে।

“ঘরের পাশেই পড়েছিলো স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবকাঠামো। অথচ এত বছর সরকারি স্বাস্থ্য সেবা পেতে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়েছে বাসিন্দাদের।”

তিনি বলেন, “মানুষের এখন এখান থেকে চিকিৎসা দরকার। আমরা চাই এটা যেন দ্রুত পুরোদমে চালু হয়।”

স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, “বিএনপি সরকারের সময় বানানো হাসপাতালটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো। এখন আবার চালু হয়েছে। এখানে ২০ শয্যা হাসপাতাল ভবন ছাড়াও চিকিৎসক ও নার্সদের থাকার আলাদা আলাদা ভবন, স্টাফ কলোনির ভবন রয়েছে।”

হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সংস্কার কাজের জন্য সরকারিভাবে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দের একটি লিখিত পরিকল্পনা বা প্রস্তাব অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

আবুল খায়ের বলছেন, “হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও আসবাবপত্র সরবরাহ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে।”