১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নিখোঁজের ৩ দিন পর ‘এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীর’ লাশ মিলল নদীতে

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তাক আহমদ গাজীনগরী সুনামগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে প্রচার শুরু করেছিলেন।

নিখোঁজের ৩ দিন পর ‘এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীর’ লাশ মিলল নদীতে
মাওলানা মোস্তাক আহমদ গাজীনগরী।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Sep 2025, 01:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:14 PM

সুনামগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের এক নেতার মরদেহ পুরাতন সুরমা নদীতে ভেসে উঠেছে।

শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা নদীতে লাশটি ভেসে থাকতে দেখে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে বলে জানিয়েছেন দিরাই থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক।

লাশ উদ্ধার হওয়া মাওলানা মোস্তাক আহমদ গাজীনগরী শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাজীনগর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় বড় মোহা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।    

তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা কমিটির সহসভাপতি। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। সেজন্য স্থানীয়দের মধ্যে প্রচারও শুরু করেছিলেন। 

পরিবারের লোকজন জানান, গত মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে নিখোঁজ হন মাওলানা মোস্তাক আহমদ গাজীনগরী। বুধবার তার সন্ধান চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার। 

বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরে তার সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ। 

নিহতের ভাতিজা আবু সুফিয়ান বলেন, “চাচা একজন ভালো মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে তার বিরোধ ছিল না। তিনি জেলা শহরে আসার কথা বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। আজ (শুক্রবার) তার লাশ পাওয়া গেল নদীতে।” 

এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে বলে দাবি জানান তিনি। 

সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রোকন উদ্দিন বলেন, “মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সুনামগঞ্জের দিরাই রাস্তা পয়েন্ট এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরায় তাকে (মুশতাক) দেখা গেছে। এরপর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। আজ উনার লাশ পাওয়া গেল নদীতে। 

“উনাকে নির্মমভাবে হত্যা করে নদীতে লাশ ফেলে রেখেছে দুর্বৃত্তেরা। আমরা ঘাতকদের শাস্তি চাই।”

দিরাই থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ঘটনাস্থল দিরাই ও শান্তিগঞ্জ থানার মিলনস্থল। তাই আমরা দুই থানা মিলে লাশটি উদ্ধার ও সুরতহাল রিপোর্ট করে জেলা সদরে মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছি।” 

পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্তও শুরু হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।