১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নজরে রাখতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

“অনুরোধ আসতে থাকে ওসির বদলির, সবাই ভাবে ওসিই বুঝি তাকে পার করে দেবে। জনগণ তাকে পার করবে কিনা এটা চিন্তা নাই।”

জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নজরে রাখতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
যশোরে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

যশোর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Apr 2025, 08:21 PM

Updated : 10 Sep 2026, 05:57 PM

জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গতিবিধির উপর নজর রাখার জন্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কিছু কিছু শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিন পেয়ে গেছে। তাদের দিকে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে। তাদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে হবে। গোয়েন্দা বাহিনী যারা আছেন তাদের বেশি সতর্ক হতে হবে। এ ছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে জোরদার করতে হবে।” 

মঙ্গলবার যশোর জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

উপদেষ্টা বলেন, “বিভিন্ন থানা থেকে যে পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়ে গিয়েছিল তা সব আমরা উদ্ধার করতে পারিনি। এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উদ্ধার করতে হবে।”

তিনি বলেন, “একটা বড় সমস্যা হইল যে, থানার ওসির পোস্টিং। এতো রিকোয়েস্ট আসতে থাকে ওসির পোস্টিংয়ে, সবাই ভাবে ওসিই বুঝি তাকে পার করে দেবে। জনগণ তাকে পার করবে কিনা এটা চিন্তা নাই।” 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “তারা এখনই তেল দেওয়া শুরু করে দিয়েছে যে, কে ভবিষ্যতে আসবে তাই ভেবে। আমি একটা কথা সব সময় বলি, আপনার যে তেল আছে তা এখন রেখে দেন। এখন তো আপনাদের তেলের দরকার নাই। তেল যখন দরকার হবে তখন কারে তেল দিয়ে কোথায় উঠতে হবে তখন তেল দিয়েন। 

“এখনই দেখি, যদি কোনো নেতা আসে আমাদের অফিসে- একজন অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি, একজন জয়েন্ট সেক্রেটারি, না হয় একজন ডেপুটি সেক্রেটারি তার পাশাপাশি থাকা শুরু করে দিয়েছে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা অরাজনৈতিক সরকার। আমাদের কাছ থেকে কিন্তু আপনারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিতে পারবেন। যেহেতু আমরা কোনো দলের বা কারো নই। রাজনৈতিক দলও দেশের ভালোর জন্য কাজ করে। কিন্তু তাদের একটা দলগত ব্যাপার আছে। এটা আমাদের নেই। এজন্য আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আপনাদের সুবিধা বেশি। আমরা তাড়াতাড়ি যে সিদ্ধান্ত নিতে পারি, অন্য সময় তা হয় না।”

পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সিভিল ড্রেসে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। ইউনিফর্মে যেতে হবে অথবা ভেস্ট থাকতে হবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, “আগে পুলিশে একটা বাণিজ্য ছিল ভর্তি বাণিজ্য, আর একটা পোস্টিং বাণিজ্য। ভর্তি বাণিজ্যটা আমরা মনে হয় মোটামুটি একটা কন্ট্রোলে নিয়ে আসছি। আগে তো পকেট থেকে একটা লিস্ট ধরায় দিয়েছে এই কয়টা লোক নিতে হবে।

“আর একটা পোস্টিং বাণিজ্য থেকে হচ্ছে। এখন একটা কমিটির মাধ্যমে পোস্টিং হয়, এ ছাড়া হয় না। আর ওসি যেন ঘুষ না খায়।”

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীরপ্রতীক ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে পৌঁছান। সেখান থেকে নওয়াপাড়া মাঠে ধান ক্ষেত পরিদর্শনে যান উপদেষ্টারা। পরে সেখান থেকে তারা ভবদহ ২১ স্লুইস গেট পরিদর্শনে যান।