১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাইবান্ধার সেই পল্লি চিকিৎসক পরিবারে ফিরেছেন

পরিবারের অভিযোগ, মোটরসাইকেলে ভাতগ্রাম বাজারে  যাওয়ার পথে ‘অপহরণের’ শিকার হন তরিকুল।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 May 2025, 12:48 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:39 PM

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ‘অপহরণের শিকার হওয়া’ পল্লি চিকিৎসক তরিকুল ইসলামকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তাকে ছোট ভাই হিরু মিয়ার ‘জিম্মায়’ দেওয়ার তথ্য দেন সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজউদ্দিন খন্দকার।

তিনি বলেন, পল্লি চিকিৎসককে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে গাইবান্ধা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নেওয়া হয়। বিচারক ১৬৪ ধারায় তরিকুল ইসলামের জবানবন্দি নেন। পরে রাতে তাকে সাদুল্লাপুর থানায় আনা হয়। থানা থেকে দেওয়া হয় পরিবারে।

তরিকুলের বাড়ি ভাতগ্রাম ইউনিয়নে; কৃষ্ণপুরের কুটিপাড়ায়; বাবার নাম নুরুল ইসলাম। 

পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তরিকুল বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম বাজারে নিজের ওষুধের দোকানে যাচ্ছিলেন। হাতি চামটার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে কয়েকজন তার পথরোধ করেন। পরে তারা তাকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। 

এ অভিযোগে পরদিন বিকালে সাদুল্লাপুর থানায় মামলা করেন পল্লি চিকিৎসকের ছোটভাই হিরু মিয়া। 

মামলার দুদিন পর সোমবার বিকালে বগুড়া থেকে র‌্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প, র‌্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্প ও সাদুল্লাপুর থানা অভিযান চালিয়ে পল্লি চিকিৎসককে উদ্ধার করে। তাকে পাওয়া যায় জেলা সদরের নিশিন্দারা এলাকার একটি সড়ক থেকে।

উদ্ধারের পর ওইদিন রাত ৯টার দিকে পল্লি চিকিৎসককে বগুড়া থেকে সাদুল্লাপুর থানায় আনা হয়। সোমবার রাতে তিনি ছিলেন সাদুল্লাপুর থানা হেফাজতে। পরের দিন আদালত হয়ে পরিবারে ফিরলেন তরিকুল ইসলাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়, তরিকুলের ওষুধের দোকানে সুমন মিয়া নামে এক যুবক কাজ করতেন। তাকে এক পর্যায়ে বাদ দিয়ে দেন তরিকুল। তখন সুমন মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তরিকুলের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। 

বাদীর অভিযোগ, গত ৪ জানুয়ারি ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বসিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। কিন্তু সুমন তারপরও তরিকুলের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতে থাকে।  এর মধ্যে শুক্রবার তাকে তুলে নিয়ে যায়। 

সোমবার রাতে সাদুল্লাপুর থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) বিদ্রোহ কুমার কুন্ড বলেন, অপহরণের পর তরিকুলকে চোখ বেঁধে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। অপহরণকারীরা ফোন করে তার স্বজনদের কাছে টাকা দাবি করে।   

পুলিশ সুপার সেদিন বলেন, বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা এলাকার একটি সড়ক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

এ মামলায় মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত কারো গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।