১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

টাঙ্গাইলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে চলছে ১৪৪ ধারা, ‘থমথমে’ অবস্থা

“অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল দিচ্ছে।”

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Sep 2025, 02:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:15 PM

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় একই স্থানে ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ’ ও ‘ছাত্র সমাবেশকে’ কেন্দ্র করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির পর সেখানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

রোববার ভোর ৬টা থেকে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাঁচশ গজ এলাকায় এ কার্যক্রম চলছে। সেখানে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ তৎপর রয়েছে।

বাসাইল থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, “একই জায়গায় দুটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা তৎপর রয়েছি।

“অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টিম টহল দিচ্ছে।”

এর আগে শনিবার রাত ৯টার দিকে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্র্রেট আকলিমা বেগম এ আদেশ জারি করেন।

রোববার বিকাল ৩টায় উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে একই সময়ে কাদেরিয়া বাহিনীর উদ্যোগে ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ’ ও ‘ছাত্র সমাজের’ ব্যানারে ছাত্র সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। 

গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করার আবেদন করেন যুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙ্গাল। সমাবেশে অতিথির তালিকায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও আছেন।

এদিকে ছাত্রসমাজের ব্যানারে একইস্থানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ৫ সেপ্টেম্বর লিখিত আবেদন করেন রনি মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তবে রনি মিয়ার মোবাইল নম্বর ও পুরো ঠিকানা আবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

রনি মিয়া বলেন, “সারাদেশে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুর্নবাসন করার চেষ্টা চলছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের যেন পুর্নবাসন করতে না পারে, সেজন্য আমরা ছাত্রসমাজ সমাবেশের ডাক দিয়েছি। আমাদের সমাবেশ খুবই শান্তিপূর্ণভাবে হবে। যত বাধা-বিপত্তি আসুক, নির্ধারিত স্থানেই সমাবেশ করব।”

আর যুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙ্গাল বলেন, “অনুমতি চেয়ে আমরা আগে আবেদন করেছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠান বানচালের জন্য তারা একইস্থানে সমাবেশ ডেকেছে।

“তারা আমাদের অনুষ্ঠানের আগে বা পরদিন সমাবেশ করতে পারতেন। তাদের সঙ্গে তো আমাদের কোনো প্রতিহিংসা নেই। ইতোমধ্যে আমরা অতিথিদের দাওয়াত দিয়েছি।”

রোববার রনি মিয়া বলেন, “শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ করার চেষ্টা করবে কাদেরিয়া বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা। সেখানে সমাবেশ করতে না পারলে পৌর এলাকার আশপাশে সমাবেশ করবে। আর যেকোনো মূল্যে ছাত্র সমাজের ডাকা সমাবেশও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।”

ইউএনও আকলিমা বলেন, “একই তারিখ ও একই সময়ে দুই পক্ষ সমাবেশ করলে রক্তপাতসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও জনসাধারণের জানমাল রক্ষার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।”

এ আদেশ রোববার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানান তিনি।