১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কলকাতায় আগুনে মৃত্যু: সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৪ লাশ এল কুষ্টিয়ায়, স্বজনদের আহাজারি

মঙ্গলবার রাতে কলকাতার একটি হোটেলে রাতযাপনের সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান একই পরিবারের চারজন।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 01:14 AM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের চারজনের মরদেহ কুষ্টিয়ায় পৌঁছেছে। 

শনিবার রাত পৌনে ১১টায় নিহতদের মরদেহবাহী গাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাসার সামনে পৌঁছায়। তখন সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 

দেবাশীষ দত্তের বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে থাকা দেবাশীষের সহকর্মী ও বন্ধুরাও সজল চোখে একে অপরকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।    

নিহত অন্য তিনজন হলেন- দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন। 

এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় কোলকাতায় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে গাড়িতে করে চারটি মরদেহ বেনাপোলের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় মরদেহ বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছায়। 

সেখানে দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বহনকারী গাড়ি বদল করা হয়। পরে অন্য একটি গাড়ি চারটি মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তকে শেষবারের মত দেখার জন্য তার বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মীসহ শত শত মানুষ। 

পরিবার জানিয়েছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশু সন্তান স্বর্ণশীষের সৎকার করা হবে। শনিবার রাতে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে বাবা-ছেলের সৎকার করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ প্রথমে দেবাশীষের বাড়ির সামনে আনা হয়। পরে সেখান থেকে তাদের শহরের থানাপাড়ার মডেল মসজিদে জানাযার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। জানাযা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে তাদের দাফন করার কথা রয়েছে। 

৩ অগাস্ট দেবাশীষ দত্ত তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছোট ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম হোসেনকে নিয়ে ভারতের চিকিৎসার জন্য যান। মঙ্গলবার রাতে কলকাতার একটি হোটেলে রাতযাপনের সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। 

আরও পড়ুন:

কলকাতায় আগুনে ৯ মৃত্যু: 'তোমরা আমার দেবাকে এনে দাও', মায়ের আহাজারি