১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় নবজাতকের মৃত্যুতে মামলা, গ্রেপ্তার ১

শরীয়তপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতক ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিল, তাই তাকে ঢাকায় নিচ্ছিলেন স্বজনরা।

অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় নবজাতকের মৃত্যুতে মামলা, গ্রেপ্তার ১
গ্রেপ্তার সবুজ দেওয়ান।

বিডিনিউজ২৪

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2025, 09:31 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:35 PM

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। 

শনিবার ভোরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বেড়া চিকন্দী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার ও পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন। 

গ্রেপ্তার সবুজ দেওয়ান (২৮) শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধানুকা এলাকার আবু তাহের দেওয়ানের ছেলে। আবু তাহের শরীয়তপুর জেলা সিভিল সার্জনের গাড়ির চালক এবং এই ঘটনায় করা মামলার আসামি।  

এর আগে শুক্রবার রাতে পালং মডেল থানায় পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা করে শিশুটির বাবা নূর হোসেন সরদার। নূর হোসেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাতিয়ানী এলাকার বাসিন্দা। 

মামলার এজাহার, রোগীর স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, নূর হোসেন সরদারের স্ত্রী রুমা বেগম বৃহস্পতিবার রাতে জেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্য দেন। 

নবজাতকটি কিছুটা অসুস্থ থাকায় তারা চিকিৎসকের পরামর্শে সেদিন রাতে ঢাকায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তবে তাদের ভাড়া করা ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সটিকে বাধা দেয় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক ও ব্যবসায়ী সবুজ দেওয়ান ও তার বাবা আবু তাহের দেওয়ান। 

একপর্যায়ে তারা অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাবি কেড়ে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা আটকে থাকার কারণে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই মৃত্যু হয় শিশুটির।

মামলার বাদী ও শিশুর বাবা নূর হোসেন বলেন, “আমরা চাই এই ঘটনার প্রত্যেক অপরাধীকে প্রশাসন দ্রুত গ্রেপ্তার করুক। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর কেউ ঘটানোর সাহস না পায়।”

পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তৎপর হই। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার মূল হোতা সবুজ দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করে পালং মডেল থানায় হস্তান্তর করি।

বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে করতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে বলে জানান তিনি। 

আগের সংবাদ

অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখলো 'সিন্ডিকেট', প্রাণ গেল নবজাতকের