১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, রাতে খোলা হবে কাপ্তাই বাঁধ

সেতু ডুবে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের প্রবেশে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, রাতে খোলা হবে কাপ্তাই বাঁধ
টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন চার ইঞ্চি ডুবে গেছে।

রাঙামাটি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2026, 08:00 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে ডুবে গেছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু। শনিবার দুপুর ২টার দিকে হ্রদের পানি বেড়ে সেতুর পাটাতন চার ইঞ্চি ডুবে গেছে।

হ্রদের পানির চাপ কমাতে রাতে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ের গেইট খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান।

সেতু ডুবে যাওয়ায় ঝুলন্ত সেতুতে দর্শনার্থীদের প্রবেশে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলক বিকাশ চাকমা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। সেইসঙ্গে উজানের পানি বেড়ে গিয়ে দুপুর ২টার দিকে ঝুলন্ত সেতুটি পাটাতন চার ইঞ্চি ডুবে যায়। 

এর মধ্যে সেতুতে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি টিকেট বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে। পাটাতন থেকে পানি নেমে গেলে সেতুটি সংস্কার করে পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাঙামাটিতে ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যার মধ্যে বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ মিলিমিটার এবং শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ ক্য চি নু মারমা।

রাতে খুলছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ের গেইট 

এদিন বিকালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসানের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা শনিবার দুপুর ২টায় ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণসীমা ১০৯ ফুট এমএসএল।

উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাত ১০টায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেইট ছয় ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়ে কাপ্তাই হ্রদ থেকে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে। এতে প্রায় নয় হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হবে। 

বর্তমানে হ্রদের উচ্চতা, ইনফ্লো ও বৃষ্টিপাতসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত, পানির উচ্চতা এবং ইনফ্লোর তারতম্যের ওপর নির্ভর করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে নেওয়া হতে পারে।

ইনফ্লো বেশি হলে স্পিলওয়ে গেইট খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।