১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দিনাজপুরে চামড়া কিনে বিপাকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা, দাম পাচ্ছেন না

“আড়তদাররা ছাগলের চামড়া নিবে না বলছে। ওই চামড়া ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।”

দিনাজপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jun 2025, 02:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:09 PM

দিনাজপুরে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত উঠেছে। কেনা দাম না পেয়ে লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে তাদের।

তাদের দাবি, ন্যায্যমূল্য দিচ্ছেন না আড়তদাররা। ওদিকে আড়তদাররা বলছে, মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়ার ধরন না বুঝেই বেশি দামে চামড়া কিনে এখন এমন কথা বলছেন।

উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় চামড়ার বাজার দিনাজপুরের ‘রামনগর বাজারে’ রোববার সকাল থেকে কোরবানির চামড়া বেচাকেনা চলছে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে কেনা চামড়া নিয়ে এ বাজারে বিক্রির জন্য আসছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারে ‘সঠিক দাম’ না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

রামনগর চামড়া বাজারে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া ফেলে দিচ্ছেন। রোববার সকালে পৌরসভার বর্জ্য পরিবহনে করে ফেলা দেওয়া চামড়া নিয়ে যেতে দেখা যায়।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরুর চামড়া কিছু বিক্রি করতে পারলেও ছাগলের চামড়া আড়তগুলো নেয়নি। কিছু বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১২ টায়।

মৌসুমি চামড়া বিক্রেতা খলিুর রহমান বলছিলেন, তিনি এবার প্রথম চিরিরবন্দর উপজেলা রানীরবন্দরে নিজ গ্রাম থেকে গরু-ছাগলের চামড়া কিনেছেন। এখন সেই চামড়া আড়তে বিক্রি করতে এসে হতাশ। এখানে ন্যায্যমূল্য দিচ্ছেন না আড়তদাররা।

তিনি বলেন, “আড়তদার অনেক কম দামে চামড়া নিচ্ছে। এখানে ছোট গরুর চামড়া দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা এবং বড় গরুর চামড়া ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

“আমি একটা বড় গরুর চামড়া বিক্রি করেছি ৫০০ টাকায়। আমার সেখানে দেড়শ টাকা লস হয়েছে। আর ছাগলের চামড়া তো বলছে ১০ টাকা। সেটা তো বিক্রিই করতে পারি নাই।”

একই অভিযোগ একরামুল হক নামের আরেক মৌসুমি ব্যবসায়ীর। তিনি একটি মাদ্রাসার সংগ্রহ করা বেশ কিছু চামড়া আড়তে বিক্রি করতে এসেছিলেন।

একরামুল বলেন, “আমাকে আড়তদার গরুর চামড়া দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা বলছে। আড়তদাররা ছাগলের চামড়া নিবে না বলছে। ওই চামড়া ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।”

মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুরের চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, “মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়ার ধরন ও মাপ না বুঝেই বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। এখন তারা আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।

“একটা চামড়া লবনজাত করে ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ হবে তিনশ টাকা। এই খরচের বিষয় মাথায় রেখে আমাদের চামড়া কিনতে হচ্ছে।”

দেশের অন্য যে কোনো জেলার চেয়ে এখানে চামড়া ‘বেশি দামে’ কেনা হচ্ছে বলেও দাবি এ চামড়া ব্যবসায়ীর।

চামড়া ফেলে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যে চামড়া আমরা বিক্রি করতে পারব না সেই চামড়া আমরা নিচ্ছিনা।”