কক্সবাজারে সাইফুদ্দিনের শরীরে ১৭ ছুরিকাঘাত, খুনি একাই ছিল: পুলিশ
সোমবার রাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির সামনে থেকে আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কক্সবাজার শহরে পৌর আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুদ্দিনের শরীরে অন্যান্য আঘাতের চিহ্ন ছাড়াও ১৭টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং হত্যাকাণ্ডে একজনই জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, খুব বেশি প্রতিশোধপরায়ন হয়ে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আশরাফুল ইসলাম নামের ছেলেটিই একা হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছেন।
আশরাফুল ইসলাম (১৮) কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী ইসলামপুর এলাকার মোহাম্মদ হাশেমের ছেলে।
মঙ্গলবার দুপুরে এই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।
নিহত সাইফুদ্দিন (৪৫) কক্সবাজার শহরের ঘোনার পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত আনসার কমান্ডার আবুল বশরের ছেলে। তিনি কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন।
সোমবার সকালে কক্সবাজার শহরের হলিডের মোড় সংলগ্ন আবাসিক হোটেল সানমুনের দ্বিতীয় তলার ২০৮ নম্বর কক্ষ থেকে সাইফুদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হাত বাঁধা অবস্থায় পাওয়া মরদেহটির শরীরে কয়েকটি ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং শরীরের নানা অংশে জখম রয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
পুলিশ সুপার মাহফুজুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাইফুদ্দিন ও আশরাফুল আবাসিক হোটেলটির কক্ষে একসঙ্গেই গিয়েছিলেন। হত্যার পর আশরাফুল কক্ষ থেকে বের হয়ে সাইফুদ্দিনের মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
“সোমবার রাতে আশরাফুলকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দিনের বিস্তারিত তথ্য পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছেন তিনি।
“ইতিমধ্যে সাইফুদ্দিনের মোটরসাইকেল, হত্যায় ব্যবহৃত অন্যান্য আলামতও পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।“
সাইফুদ্দিনের লাশ উদ্ধারের পর হোটেলের সিসিটিভি ভিডিও দেখে হত্যায় জড়িতদের শনাক্তে মাঠে নামে পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, “হোটেল থেকে সংগ্রহ করা ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে পুলিশ শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরে সোমবার মধ্যরাতে প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িত সন্দেহ করা ওই তরুণের অবস্থান পুলিশ নিশ্চিত হন।
পরে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অস্থায়ী তল্লাশী চৌকি স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে টেকনাফমুখি একটি বাসে তল্লাশীর সময় পুলিশ আশরাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন
