Published : 26 Sep 2024, 08:27 PM
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় হাত-পা বেঁধে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
গত ১৩ অগাস্ট রাতে পূর্ব চরবটা ইউনিয়নের চরমজিদ গ্রামে তিন সন্তানের ওই জননীকে নির্যাতন করা হলেও তার একটি ভিডিও বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানিয়েছেন চরজব্বার থানার ওসি কাউছার আলম ভূঁইয়া।
এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন-ওই নারীর স্বামী নুর নবী (৩২) ও তার ভাই শেখ ফরিদ (৩৫) বোন ছায়েরা খাতুন (৩৮) এবং ভাগনে সাইফুল ইসলাম হাসান (১৫)।
নির্যাতনের শিকার ৩০ বছর বয়সী ওই নারী জানান, ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে ওই গ্রামে তার বিয়ে হয়। কিন্তু স্বামী শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি ভিক্ষা করে সংসার চালান।
এর মধ্যে তাদের এক মেয়ের হৃদরোগের সমস্যা থাকায় চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। এজন্য স্থানীয় কয়েকটি বাজারে ভিক্ষা করে ১৫ হাজার টাকা জোগাড় করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভিক্ষা করে বাড়ি ফিরতে দেরী হলে তার স্বামী ‘পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের’ অভিযোগ তুলে প্রায়ই তাকে গালমন্দ করতেন। এভাবে পারিবারিক কলহ দেখা দিলে কিছুদিন আগে কাজের সন্ধানে তিনি ঢাকা চলে যান।
পরে গত ১৩ অগাস্ট রাতে শ্বশুর বাড়ির পাশের বেলাল সওদাগর নামে এক ব্যক্তি ভরসা দিয়ে তাকে শ্বশুর বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সেদিন রাত ১২টার দিকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায়।
নির্যাতনে স্বামী ছাড়াও তার শ্বশুর, ননদ, জা, ভাসুরের ছেলে, ভাগনে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্যাতিত ওই নারী বলেন, “আমি এতিম। আমার মা-বাবা কেউ নেই। আমার খালাতো ভাইয়েরা আমাকে লালন পালন করে বিয়ে দেয়। খবর পেয়ে তারাই আমাকে উদ্ধার করে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওই নারীর স্বামীর মোবাইলে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
চরজব্বর থানার ওসি কাউছার আলম ভূঁইয়া বলেন, গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা একটি ভিডিওচিত্র এক গণমাধ্যমকর্মী আমাকে পাঠিয়েছেন। ভিডিওচিত্র দেখে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।