Published : 16 Dec 2024, 08:35 PM
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার ক্ষত এখন শুকায়নি। তিন মাসের জলাবদ্ধতায় এখানকার মানুষের জীবন একেবারে বিপর্যস্ত। তবু এর মধ্যেই মানুষ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘গাউটে পূজা’র মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে ওঠেছে।
ভবদহ পাড়ের কপালিয়া বাজারের পূর্বপাশে রাজবংশি পাড়ার কালিমন্দির চত্বরে সপ্তাহব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে মঙ্গলবার গভীর রাত অবধি।
স্থানীয়রা বলছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রীশ্রী মহামায়া পূজাকে কেন্দ্র করে এ মেলার আয়োজন হলেও এটি এ এলাকার হিন্দু-মুসলমানের অন্যতম মিলনমেলা। মেলা প্রতিদিন বিকাল ৩টায় শুরু হয়ে চলছে গভীর রাত পর্যন্ত।
মেলা উপলক্ষে মন্দিরের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে সুসজ্জিত মঞ্চ। মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিল্পীরা ধর্মীয়সহ বিভিন্ন গান পরিবশেন করছেন। এ ছাড়া কবিতা আবৃত্তি, নাটক ছাড়াও প্রতিরাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যাত্রাপালা।
মন্দির চত্বর ছাড়িয়ে ভবদহের তিনভেন্ট স্লুইচ গেইটের পাশ দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটারের ছোট রাস্তার দুপাশে হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসেছে কয়েকশ দোকান।
এসব দোকানে চাসহ বিভিন্ন খাবার, শিশুদের খেলনা, নারী-শিশুসহ সব বয়সীদের পোশাক, জুতা, স্যান্ডেল, প্রসাধন সামগ্রী, কাঠের তৈরি আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী শোভা পাচ্ছে।
এ ছাড়া রয়েছে নাগরদোলা, পুতুল নাচসহ বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা।
শুধু কপালিয়া নয়, শীত উপেক্ষা করে আশপাশের যশোর ও খুলনার চার উপজেলার মানুষও এই মেলায় দলবেঁধে আসছেন। শ্রীহরি নদীর বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে প্রতিদিন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে অনেক মানুষ মেলায় আসেন।
মেলা অয়োজক কমিটির সভাপতি শিবুপদ মণ্ডল জানান, শত বছরের ঐতিহ্য গাউটে পূজা উপলক্ষে প্রতিবছর সপ্তাহব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। সনাতন ধর্মের পাশাপাশি মুসলিমরাও এ মেলায় অংশ নেন।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার সরকার জানান, জলাবদ্ধতার সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করে ভবদহ জনপদের বাসিন্দাদের বসবাস করতে হয়। এখানে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে চমৎকার সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। ফলে হাজারো কষ্টের মধ্যে এ মেলা ভবদহবাসীকে একটু আনন্দ দেয়।
স্থানীয় মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার ফারুক মিন্টু জানান, প্রতিবছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ মেলা এলাকার সব ধর্মের মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্ধন তৈরি করে।
স্থানীয় ঘের মালিক হরিচাঁদ মল্লিক জানান, এখানকার হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে চমৎকার সম্প্রীতি বজায় রয়েছে।
কোরবান আলী জানান, তারা অনেকেই স্বেচ্ছাশ্রমে এ মেলার নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন জানান, তার দল মেলা নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করছে। প্রতিদিন মানুষের ঢল নামে মেলায়।