১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘূর্ণিঝড় দানা: কক্সবাজারে বার্জের ধাক্কায় ভেঙে গেছে নৌবাহিনীর জেটি

জেটি ভেঙে যাওয়ায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণেও দেখা দিয়েছে বিপত্তি।

ঘূর্ণিঝড় দানা: কক্সবাজারে বার্জের ধাক্কায় ভেঙে গেছে নৌবাহিনীর জেটি
ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে তীব্র টেউয়ের তোড়ে বার্জের ধাক্কায় ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে উখিয়ার ইনানী সৈকতের নৌবাহিনীর জেটি।

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Oct 2024, 02:14 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:21 PM

ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরে উত্তাল হয়ে উঠেছে। টেউয়ের তোড়ে বার্জের ধাক্কায় ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে উখিয়ার ইনানী সৈকতের নৌবাহিনীর জেটি।

বুধবার রাতের কোনো এক সময় মেরিন ড্রাইভের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছেন উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন। 

তিনি বলেন, কি কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে তা বিস্তারিত জানতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার মধ্যরাতের পর ২-৩ টার সময় ছিল পূর্ণ জোয়ার। এসময় ঢেউয়ের প্রচণ্ডতায় জেটির সাথে বাঁধা সংস্কার কাজে ব্যবহৃত একটি ছোট বার্জের ধাক্কায় জেটিটির বড় একটি অংশ ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।

ইনানী জেটিঘাট এলাকার চা দোকানী আব্দুল মাজেদ বলেন, “বার্জটি জেটির সাথে বেঁধে রাখায় মধ্যরাত থেকে বাতাসের ধাক্কায় বড় বড় আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল। কিন্তু এ সময় কেউ জেটিতে এবং বার্জে ছিল না।” 

এদিকে গত বছর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ আসা যাওয়া করছিল ওই জেটি দিয়ে। এ বছরও পর্যটন মৌসুমের শুরুতে পহেলা নভেম্বর থেকে এ জেটি দিয়ে দ্বীপে যাতায়াতের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল জাহাজ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে। 

এখন জেটি ভেঙে যাওয়ায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণেও দেখা দিয়েছে বিপত্তি।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় দানা’র প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কক্সবাজার আকাশ মেঘলা রয়েছে। মাঝে মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এর প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলবর্তী সাগরে পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চাইতে অন্তত ১ থেকে ২ ফুটের কিছুটা বেশি। 

এতে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। 

ঘূর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং ভারতের উড়িশ্যা উপকূল দিয়ে অতিক্রম করতে পারে বলে জানান তিনি।

সেই সঙ্গে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সকল নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। 

যদিও এখন সাগরে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। 

এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজারে ঘুরতে আসা পর্যটকদের গোসলে নামা বিপদজনক বলে জানিয়েছেন পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত লাইফগার্ডসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা।

সী সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার ওসমান গণি বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় বড় বড় ঢেউ তীব্র বেগে সৈকত উপকূলে আছড়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি সাগরে গোসলে নামা নিরাপদ নয়। 

এ কারণে পর্যটকদের গোসলে না নামতে লাইফগার্ড কর্মিদের পাশাপাশি বিচকর্মি ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা মাইকিং করে প্রচার চালাচ্ছেন।

তারপরও পর্যটকদের অনেকে নির্দেশনা না মেনে গোসল করছেন বলে জানান তিনি।