Published : 14 Jan 2026, 09:54 PM
বাংলা নাটকের শেকড়মুখী অভিযাত্রার অন্যতম পথিকৃৎ নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা ও স্মরণে মুখর হয়ে ওঠে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান এ নাট্যব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। যার চিন্তা, সৃজন ও সংগ্রাম বাংলা নাট্যধারাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র আত্মপরিচয়।
বুধবার সকালে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক।
তিনি বলেন, “সেলিম আল দীন আমাদের জাতির গর্ব। নাট্যকলা চর্চাকে অ্যাকাডেমিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। পাশ্চাত্য ধারার বাইরে গিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতির ভাষা ও রূপ নির্মাণে তিনি যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা আজও আমাদের জন্য পথনির্দেশক।”
প্রয়াণ দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে পুরাতন কলা ভবন থেকে একটি স্মরণযাত্রা শুরু হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে এ যাত্রা শেষ হয় নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের সমাধি প্রাঙ্গণে। সেখানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ফাহমিদা আক্তার, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ইফসুফ হাসান অর্কসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সেলিম আল দীন-এর ১৯তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন পর্ষদ ২০২৬-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে অধ্যাপক ফাহমিদা আক্তার বলেন, “হাজার বছরের বাংলা নাট্যধারার ভেতরে শিল্পের মূল সূত্রের সন্ধান করেছিলেন সেলিম আল দীন। একইসঙ্গে নাট্য-আঙ্গিকের প্রচলিত অবয়ব ভেঙে তিনি নির্মাণ করেছেন নতুন রূপ। সেই ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে তার নাটকে উঠে এসেছে এই জনপদের জীবন, এক মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়।”
সেলিম আল দীনের হাত ধরে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সৃষ্টি, তার অবর্তমানে, তার শিল্পচিন্তা ও সৃষ্টিই সবার নিরন্তর প্রেরণার উৎস বলে মনে করেন ফাহমিদা আক্তার।
সেলিম আল দীনের সমাধিতে আরও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে ঢাকা থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটার, আরশিনগর, স্বপ্নদল থিয়েটার, বুনন থিয়েটার, কাকতাড়ুয়া পাপেট, শহীদ টিটু থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
এ ছাড়া শ্রদ্ধা জানায় ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র, অফিসার সমিতি, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র এবং অন্বিতা-সেলিম আল দীন বিদ্যাপীঠ।
দিনের শেষে পুরাতন কলা ভবনে অনুষ্ঠিত হয় সেমিনার। ‘সেলিম আল দীন ও বাংলা নাট্যের বিঔপনিবেশিক আত্মপরিচয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।
আলোচক ছিলেন অধ্যাপক ইফসুফ হাসান অর্ক ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ নিজার। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান।
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ অগাস্ট ফেনীর সোনাগাজীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তার উদ্যোগে ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু করে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ; যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি।
২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কালজয়ী এ নাট্যকার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।