১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নীলফামারীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে নিম্নমানের চাল, ওজনেও কম দেওয়ার অভিযোগ

এ ছাড়া অনেক দানা পোকায় খাওয়া বলে অভিযোগ সুবিধাভোগীদের।

নীলফামারী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 08:11 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

একদিকে নিম্নমানের চাল অন্যদিকে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগীরা। 

তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত ৩০ কেজির পরিবর্তে কোথাও কোথাও ২৭ থেকে ২৯ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ করা চালের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। 

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের বিভিন্ন ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে বিতরণের জন্য রাখা চালের মধ্যে মরা, পচা, ভাঙা, ধুলা-বালি ও ময়লা মিশ্রিত দানা দেখা গেছে। এ ছাড়া অনেক দানা পোকায় খাওয়া বলে অভিযোগ সুবিধাভোগীদের।

স্থানীয় কয়েকজন এসব চাল খাওয়ার অনুপযোগী বলে অভিযোগ করেছেন। তবে চাল বিতরণের সময় কোনো বিক্রয়কেন্দ্রেই তদারকি কর্মকর্তার (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

গুদাম থেকে নিম্নমানের চাল সরবরাহ ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) মো. মামুনার রশীদ।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের কৃষক, দিনমজুর, দরিদ্র ও অসহায় মানুষ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারের মতো নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ডিমলার ১০টি ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় মোট ২১ হাজার ৩৩৫ জন কার্ডধারী সুবিধাভোগী রয়েছেন। চলতি পর্যায়ে তাদের জন্য ৬৪০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, কার্ডধারীরা ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল কেনার সুযোগ পান। সে হিসাবে ৩০ কেজি চালের মূল্য ৪৫০ টাকা। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলায় ৪১ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

১৬ অগাস্ট থেকে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৪১ জন ডিলার উপজেলা সদরের খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহ শুরু করেন। পরে নির্ধারিত দিনে তারা নিজ নিজ বিক্রয়কেন্দ্রে সুবিধাভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ করছেন।

সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৭ থেকে ২৯ কেজি করে চাল দেওয়ায় প্রতি কার্ডে এক থেকে ৩ কেজি চাল কম পাচ্ছেন তারা। সেইসঙ্গে চালের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের সুবিধাভোগী আয়েশা আক্তার, মোজাম্মেল হক, ইমান আলী, নূর হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের চাল আগে কখনো দেওয়া হয়নি। এবার পোকা ধরা, ধুলা-ময়লা মেশানো এবং নানা ধরনের চাল মিশ্রিত রয়েছে। এ কারণে অনেকে চাল নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। চালগুলো কেউ নিতে চায় না। এগুলো খাওয়ার অনুপযোগী।

তারা বলেন, আগে ওজন ও চালের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। এবার চালের মানও খারাপ, ওজনেও কম দেওয়া হচ্ছে। ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চালের জন্য ৪৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু ডিলাররা ২৭, ২৮ বা ২৯ কেজি করে দিচ্ছেন। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ডিলার ছাকিউদ্দিন মানিক, কানেশ্বর চন্দ্র রায় ও মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে তাদের যে চাল সরবরাহ করা হয়েছে, তা সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করছেন তারা। চালের মান নির্ধারণ বা গুদাম থেকে সরবরাহের বিষয়টি তাদের হাতে নেই।

অনিয়মের বিষয়টি দেখার জন্য ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মামুনার রশীদ ও খাদ্যগুদামের খাদ্য পরিদর্শক মো. নবাব আলীকে মোবাইলে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ করা হলে তারা ‘আসতেছি’ বলে জানান। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা ঘটনাস্থলে আসেননি। 

এমনকি পরে তাদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও বেলা ৩টার পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পচা চাল বা খাবার অনুপযোগী হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ডিমলা সরকারি খাদ্যগুদামের খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. নবাব আলী বলেন, “আমরা গোডাউন থেকে ভালো চাল দিয়েছি। এর দায়-দায়িত্ব আমাদের নয়। আমি খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্যারের সাথে আছি।”

পরে তিনি বলেন, “ভাই, নিউজ করার আগে অফিসে আসেন, সরাসরি কথা হবে।”

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মামুনার রশীদ বলেন, “গুদাম থেকে নিম্নমানের চাল সরবরাহ ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।”

ঘটনাস্থলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জবাবে তিনি বলেন, “অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম ও ইউএনও স্যার ডেকেছিল তাই যেতে পারিনি।”

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি জানার পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। দ্রুত এর সমাধান করা হবে।”

 এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন নীলফামারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ আতিকুল হক।