এবার আরাকান আর্মির ধাওয়ায় নাফে ডুবল ট্রলার, ৭ জেলে উদ্ধার
টানা তিন দিনে ৩৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে কক্সবাজারের টেকনাফে ফেরার পথে নাফ নদীর মোহনায় মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যদের ধাওয়ায় একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে।
সোমবার দুপুরের দিকে শাহপরীর দ্বীপের বদর মোকামের ‘গরা’ এলাকায় এ ঘটনায় সাত জেলের সবাই সাঁতরে কূলে আসতে পেরেছেন।
কূলে ফেরা জেলেরা হলেন- সুলতান আহমদ, নুর কবির, কবির আহমদ, আলী হোসেন, সোনা মিয়া, গফুর আলম ও আব্দুল আমিন মাঝি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “আরাকান আর্মির ধাওয়ায় এবার মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।”
টানা তিন দিন ধরে ট্রলারসহ জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি। সবশেষ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতজনকে ধরে নিয়েছে তারা। এর আগে রোববার ও শনিবার ২৬ জনকে ধরে নেয় এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। এই অবস্থার মধ্যে এবার এ ধরনের খবর এল।
টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীয়া ঘাট ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, টেকনাফ সদরের নতুন পল্লানপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাশেমের মালিকাধীন ট্রলার এটি। বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে টেকনাফে ফেরার সময় মিয়ানমারের আরাকান আর্মির ধাওয়ায় ট্রলারটি ‘গরা’য় ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে গেছে।
“এতে সাতজন জেলে ছিলেন। তারা জীবিত অবস্থা কূলে ফিরে আসতে পারলেও ট্রলারটি ডুবে গেছে। ট্রলারে থাকা কয়েক লাখ টাকার মাছ ও জালসহ অন্যন্য জিনিসপত্র ভেসে গেছে।”
ট্রলার মালিকের বরাত দিয়ে আবুল কালাম বলেন, শুক্রবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীয়াপাড়া ঘাট থেকে সাতজন মাঝি-মাল্লাসহ ট্রলারটি সেন্টমাটিন দ্বীপে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরতে যায়। বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক লাখ টাকার মাছ জালে ধরা পড়ে। সেগুলো নিয়ে টেকনাফে ফিরছিল ট্রলারটি।
তখন আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোটে করে ট্রলারটিকে ধাওয়া করেন। মাঝি ট্রলারটি দ্রুতগতিতে চালিয়ে নাফ নদীর মোহনা শাহপরীর দ্বীপ বদরমোকামের ‘গরা’ এলাকায় নিয়ে আসেন। এ সময় ট্রলারটি ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
ট্রলার মালিক মোহাম্মদ হাশেম বলেন, “ট্রলারটি ডুবে রয়েছে। ট্রলারটি বালুতে ঢুকে যাওয়ার পাশাপাশি ঢেউয়ে কবলে পড়ে ভেঙে যেতে পারে।”
