Published : 10 Oct 2025, 07:57 PM
বরিশালে ভালোবেসে পাঁচ মাসে আগে বিয়ে করা এক কলেজছাত্রীর পা বাঁধা লাশ শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এ নারীর লাশ বিছানায় ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি।
মোবাইল ফোনের চার্জারের তার গলায় পেঁচিয়ে স্বামীই কলেজছাত্রীকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বেলতলা বাজার এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কুদ্দুস মোল্লা জানিয়েছেন।
২২ বছর বয়সী লামিয়া আক্তার বর্ষা সরকারি বরিশাল মহিলা কলেজের ডিগ্রি পাস কোর্সের ছাত্রী ও নগরীর ব্রাঞ্চ রোড খান বাড়ীর বাসিন্দা বেলায়েত খানের মেয়ে।
তার স্বামী সিয়াম শিকদার মৃদুল নগরীর বেলতলা বাজার এলাকার বাসিন্দা শাহিন সিকদারের ছেলে।
বর্ষার মামা অনিক চৌধুরী বলেন, “প্রেম করে মৃদুলকে বিয়ে করে বর্ষা। বেকার ছেলেকে বিয়ে করায় প্রথমে মেনে নেওয়া হয়নি। পরে পারিবারিক সম্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি মেনে নেওয়া হয়। এর মধ্যেই মৃদুল ব্যবসা বাণিজ্য করার জন্য বর্ষার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে।
“মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বর্ষার বাবা টাকা দিতে রাজিও হয়েছিলো। কিন্তু এ মুহূর্তে তার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকায় দিতে পারেননি। এ নিয়ে মৃদুল ও তার মা সুমা আক্তার বর্ষাকে মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করে।”
অনিক চৌধুরী আরও বলেন, বর্ষা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে মৃদুল বাসায় থাকতো না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাতো। প্রতিবেশীরা জানিয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও এ নিয়ে বর্ষার সঙ্গে মৃদুলের তর্ক হয়।
অনিক চৌধুরীর অভিযোগ, “এই তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মোবাইলের চার্জারের তার গলা পেঁচিয়ে বর্ষাকে হত্যা করে মৃদুল। পরে লাশ চাদর দিয়ে মুড়িয়ে বিছানায় ফেলে রেখে সবাই পালিয়ে যায়।”
লাশ উদ্ধার করা মহানগর পুলিশের আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কুদ্দুস মোল্লা বলেন, “খবর পেয়ে আমরা গিয়ে ঘরের খাটের উপর বর্ষার পা বাঁধা লাশ পেয়েছি। তার গলায় ফাঁস দেয়ার দাগ পাওয়া গেছে।
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সঠিক কারণ বলতে পারবো।”
এ ঘটনায় বর্ষার পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।