সহকর্মীদের অবমাননা ও ‘মব’ সৃষ্টিতে ক্ষোভ রাবির বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের
উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের তিন সংগঠনের নেতারা।
‘মব’ সৃষ্টি করে সহকর্মীদের অবমাননা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা।
সোমবার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের তিন সংগঠনের নেতারা।
সংগঠন তিনটি হলো- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ও জিয়া পরিষদ।
জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছি। জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর অতিক্রম হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘জুলাই বিরোধী’ শিক্ষকদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি- এ বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চেয়েছি।
“এ পর্যায়ে এসে কিছু ছাত্র প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী কোনো শিক্ষককে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ‘মবোক্রেসির’ মাধ্যমে সম্মানহানি করবে সেটা আমরা মেনে নেব না। যদি কোনো শিক্ষক দোষী হয়ে থাকেন তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।”
তিনি বলেন, “এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও আমরা কথা বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ডাক্তার নিয়োগ যোগ্যতার আলোকে হয়নি। এমবিবিএস ডাক্তাররা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেনি। যেহেতু বাংলাদেশে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, সেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন বন্ধ রাখেন সেই বিষয়ে উপাচার্যকে আহ্বান জানিয়েছি।”
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলীম বলেন, “আমরা ৫ অগাস্টের পর থেকে দেখছি, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করছে। তারা কার্যালয়ে তালা দিচ্ছে, এটা কোনো ছাত্রের দায়িত্ব হতে পারে না। এই কাজগুলো করা হচ্ছে রাকসুর নাম করে, যেখানে রাকসু সভাপতি উপাচার্য নিজে। রাকসুর সিদ্ধান্ত ছাড়াই তারা রাকসুর পরিচয় ব্যবহার করছে।”
আবদুল আলীম বলেন, “ডিনরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী একাডেমিক লিডার। তাদের বাঁশে ঝোলানো, কলার ধরে টেনে আনা ইত্যাদি বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সমাধান চেয়েছি। আমরা বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলার জন্য নিয়মকানুন আছে। বিশ্ববিদ্যালয় সেই নিয়ম অনুযায়ী চলবে।”
ইউট্যাব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্ত পরিস্থিতিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরতে আমরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। জুলাই-অগাস্টে সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
“এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকেরা নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে যদি ক্যাম্পাসে না আসেন, তাহলে ভর্তি পরীক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা স্পষ্ট করেছি, দ্রুত ন্যায্য বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রশাসন দায়ী থাকবে এবং আমরা আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হব।”
শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা নমনীয়তা উৎপাদন করবে, আমরা তাদেরকে জুতা খুলে মুখে মারবো ইনশাল্লাহ। রাবিতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী যদি চাকরি করে, তাদেরকে আগামী রোববার থেকে কলার ধরে টেনে টেনে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখবো।”
পরে রোববার আওয়ামীপন্থি ছয় ডিন দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সোমবার তাদের অব্যাহিত দিয়ে উপাচার্য নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করেন।
