Published : 23 Jun 2025, 08:17 PM
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জোড়া খুনের ঘটনায় আলাদা দুটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
মামলা দুটিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক দুই কাউন্সিলরকেও আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুটি মামলাতেই চারজন করে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রোববার রাতে বন্দর থানায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মামলা দুটি করেন বলে জানিয়েছেন এ থানার ওসি লিয়াকত আলী।
তিনি বলেন, দিনমজুর আব্দুল কুদ্দুস (৬০) নিহতের ঘটনায় তার মেয়ে রোকসানা বেগম মামলা করেছেন। মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি কার হয়েছে।
অপর মামলাটি করেছেন খালেদ সাইফুল্লাহ। তার ভাই বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪২) হত্যার অভিযোগে মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহীন মিয়াকে।
দুটি মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বন্দর রেললাইন, হাফেজীবাগ ও সালেহনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার ও বাবু শিকদারের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশার পক্ষের জাফর-রনিদের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল।
এর জেরে শুক্রবার বন্দর রেললাইন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে পরদিন শনিবার রাতে মেহেদী ও কুদ্দুস খুন হন বলে উভয়ের মামলায় বলা হয়েছে।
দুটি মামলাতেই সাবেক দুই কাউন্সিলরকে হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে। মামলা দুটিতে সাবেক আরেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশার পক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ড দুটি সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলেও আসামি তালিকায় তার নাম নেই।
তবে আশার পক্ষের রনি ও জাফরকে মেহেদী হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে কুদ্দুস হত্যা মামলায় বাবু শিকদার, শ্যামল ও বাবু ওরফে জুয়াড়ি বাবু আসামির তালিকায় আছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, এক সময় তাদের মধ্যে সখ্যতা থাকলেও কয়েক মাস ধরে বন্দরে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও ইজিবাইক স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে মেহেদী, বাবু সিকদার ও শ্যামল পক্ষের সঙ্গে রনি ও জাফর গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছিল।
উভয়পক্ষের সঙ্গে সাবেক দুই কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা ও হান্নান সরকারের সখ্যতা রয়েছে। শুক্রবার মারামারির ঘটনায় আটজন আহত হয়। এরই জেরে শনিবার দফায় দফায় উভয়পক্ষ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়।
সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হন হাফেজীবাগ এলাকার প্রয়াত সাদেক আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস। পেশায় দিনমজুর কুদ্দুসের সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্ব না থাকলেও তার ছেলে পারভেজ রনি-জাফর গ্রুপের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। পারভেজের সঙ্গে শত্রুতার জেরেই বাবা খুন হয়েছেন বলে দাবি কুদ্দুসের স্বজনদের।
অন্যদিকে কুদ্দুস মারা যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শাহী মসজিদ এলাকার প্রয়াত আব্দুল জলিল মুন্সির ছেলে মেহেদী হাসানকে সড়ক থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন তুলে স্থানীয় সিরাজউদ্দোল্লা ক্লাবে নিয়ে মারধর করে হত্যা করেন বলে জানায় পুলিশ।
বন্দর থানার ওসি লিয়াকত আলী বলেন, দুটি মামলায় দুইজন সাবেক কাউন্সিলরকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আরও পড়ুন:
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দুপক্ষের দ্বন্দ্বে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ