Published : 03 Jun 2026, 10:42 PM
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
বুধবার রাত ১০টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার।
তিনি বলেন, এদিন সন্ধ্যায় আসা আইভীর জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা রয়েছে। সব মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া জামিন পাওয়ার পর তা আপিল বিভাগেও বহাল রাখা হয়।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আইভী একটি গাড়িতে ওঠেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি। তবে কথা বলেছেন আইভীর আইনজীবী মো. আওলাদ হোসেন।
তিনি বলেন, আইভীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মামলাগুলোর সঙ্গে আইভী কোনোভাবেই জড়িত নন। গত বছরের মে মাসে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক বছরেরও বেশি সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
“আমরা আইনিভাবে ওনার মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ আদালত থেকে ন্যায় বিচার পেয়েছি। তবে হাই কোর্ট তাকে জামিন দেওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের আদেশ বাতিল করার জন্য চেম্বার জজে যায়। আপিল বিভাগ শুনানি শেষে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রাখে। এতে আইভির মুক্তি পেতে বাধা কাটে”, বলেন তিনি।
২০২৫ সালের ৫ মে গ্রেপ্তারের পর আইভীকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ পৃথক ১০ মামলায় গত ১০ মে আইভীকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সেদিন এ আদেশ দেয়।
এর আগে হাই কোর্ট ওই ১০ মামলায় জামিন দিলে সাবেক মেয়রকে আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ৩০ এপ্রিল সেই দুই মামলাতেও জামিন দেয় হাই কোর্ট। এ দুটি মামলায় ১৭ মে জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালতের বিচারক।
এর আগে এ দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন আইভী। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট রুলসহ আদেশ দেয়।
রুলে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে বারবার এবং মিথ্যা প্রকৃতির মামলায় আবেদনকারীকে জড়ানোর কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়।
এর আগে চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন বিষয়ে দেওয়া রুল ২০২৫ সালের নভেম্বরে যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ জামিন দেয়।
সেই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে। তখন জামিন স্থগিত করা হয়। এ পাঁচটির মধ্যে তিনটি হত্যা মামলা ও বাকি দুটি হত্যাচেষ্টা মামলা।
পরে ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ৫ মামলায় বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি জামিন দেয়।
পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেগুলো হল- ফতুল্লা থানায় করা বাস চালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দেওয়ার অভিযোগে অপর মামলাটি হয়েছে সদর মডেল থানায়।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। গত ৫ মার্চ হাই কোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠায়।
পরে ১০ মামলায় আপিল বিভাগে শুনানি হয়। শুনানি শেষে সবগুলোতে জামিন বহাল রাখা হয়।