১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বরগুনা-২: বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জামায়াতের

“আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হবে এবং নির্বাচনি পরিবেশ মারাত্মকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।”

বরগুনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jan 2026, 10:36 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:28 PM

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, ত্রাস সৃষ্টি এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা-২ আসনের (পাথরঘাটা) বিএনপি প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনির বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. শামীম আহসান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে এসে নির্বাচনি আচরণবিধি অমান্য করে পাঁচজনের বেশি লোক নিয়ে মিছিল সহকারে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি ও তার অনুসারীরা ‘উচ্ছৃঙ্খল আচরণ’ করেন এবং ‘বিদ্বেষমূলক স্লোগান’ দিতে থাকেন।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা ভিডিও করতে গেলে বিএনপি প্রার্থীর অনুসারীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক মো. জিয়াউল ইসলামকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করা হয়। 

এ ঘটনায় আলোকিত প্রতিদিনের সাংবাদিক পাথরঘাটা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। 

লিখিত অভিযোগে নির্বাচন কমিশন প্রণীত নির্বাচনি আচরণবিধিমালার ৯ নম্বর বিধির (ঘ) উপবিধি উল্লেখ করে বলা হয়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থী বা তার প্রতিনিধিসহ পাঁচজনের বেশি ব্যক্তি কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। কিন্তু ওই বিধি লঙ্ঘন করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. শামীম আহসান, “যেখানে একজন প্রার্থী সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে নাজেহাল করতে পারেন, সেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ বজায় থাকা সম্ভব নয়। 

“আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হবে এবং নির্বাচনি পরিবেশ মারাত্মকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।”

অভিযোগপত্রের অনুলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। 

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাঁচজনের বেশি লোক নিয়ে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেননি। 

বরং অন্য প্রার্থীরা এর আগে ১৮ ডিসেম্বর পাথরঘাটায় মাইক বাজিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি। 

নুরুল ইসলাম তিনি বলেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্বাচন বানচালের কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন কি-না, সে বিষয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। 

মনোনয়নপত্র গ্রহণে ‘সময় ক্ষেপণ’ করা হয়েছে বলেও বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) ইশরাত জাহান বলেন, ঘটনাটি ভিডিওতে দেখা গেছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।