কুমিল্লায় চাকরির কথায় ডেকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৩

মামলার অভিযোগ, আসামি মিরাজ ও তার পাঁচ সহযোগী এই তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে অচেতন অবস্থায় ফেলে চলে যান।

কুমিল্লা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 01:06 PM
Updated : 20 Sept 2022, 01:06 PM

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চাকরির কথায় ডেকে নিয়ে এক তরুণীকে ‘দলবেঁধে’ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মোহাম্মদ ফয়েজ ইকবাল জানান, সোমবার বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দাউদকান্দি উপজেলার পশ্চিম হুগলিয়া থেকে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার রাতেই মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ছয় জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

দাউদকান্দি থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর ভুঞা জানান, সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার পশ্চিম হুগলিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মিরাজুল ইসলাম মিরাজ (১৯), একই গ্রামের প্রয়াত তাজুল ইসলামের ছেলে অপু (২৬) ও প্রয়াত বারেক মিয়ার ছেলে মোখলেছ মিয়া (২৫)।

জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মোহাম্মদ ফয়েজ ইকবাল জানান, সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দাউদকান্দি থানার ওসির সরকারি মোবাইল ফোন নম্বরে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি কল দিয়ে জানান উপজেলার পশ্চিম হুগলিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ঝোপঝাড়ের মধ্যে এক তরুণী অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।  

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে মেয়েটির চেতনা ফিরলে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। তার বক্তব্য শুনে রাতেই তার বাবা বাদী হয়ে ছয় জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে মোহাম্মদ ফয়েজ ইকবাল জানান, আসামি মিরাজুল ইসলাম মিরাজের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। মিরাজ তাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখালে ওই তরুণী জানান তার জন্ম নিবন্ধনে বয়স ১৮ বছরের কম। এরপর মিরাজ জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তরুণীকে ডেকে নিয়ে যান। সোমবার বিকালে এই তরুণী মিরাজের সঙ্গে দেখা করতে যান। মিরাজ ও তার পাঁচ সহযোগী একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ওই তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে অচেতন অবস্থায় ফেলে চলে যান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক