Published : 26 Aug 2026, 10:53 PM
কক্সবাজারের নাজিরারটেক পয়েন্টের কাছে সাগরে বড় ঢেউ ও তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে নিউ জিল্যান্ডের একটি পরিবারের নৌযান ডুবে নিখোঁজ কিশোর অ্যালবার্টের (১৬) লাশ উদ্ধার হয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া উপকূলের কাছ থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
লাশটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।
এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে নাজিরারটেক পয়েন্টের কাছে সাগরের প্রবল ঢেউ ও স্রোতের ধাক্কায় ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামে হাউজবোটটি দুই টুকরো হয়ে ডুবে গেলে পরিবারের চার সদস্য সাগরে পড়ে যান। তাদের মধ্যে ৭৪ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড, তার স্ত্রী বেলা (৩৬) এবং ছেলে রালফকে (১৩) স্থানীয় জেলেরা জীবিত উদ্ধার করা গেলেও কিশোর অ্যালবার্ট নিখোঁজ ছিল।
পরিবারটির সদস্যরা বলছেন, তারা নিজেরাই এই হাউজবোটটি তৈরি করেছিলেন এবং সেখানে তারা থাকতেন।
এদিকে বাংলাদেশে এই পরিবারের অবস্থান নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। জেলা প্রশাসন বলছে, নিউ জিল্যান্ডের নাগরিক এই পরিবারের সদস্যদের কারও ভিসার মেয়াদ বর্তমানে নেই। এ পরিবারের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য রালফের কোন ভিসাই ছিল না।
কক্সবাজার সদর উপজেলা ইউএনও তাহমিনা আক্তার বুধবার বলেন, “এদের কারও কারও ভিসা থাকলেও মেয়াদ নেই। আবার ছোট শিশু রালফের ভিসার কোনো কাগজপত্রও পাওয়া যায়নি।”
সোনাদিয়ায় জলদস্যুদের হামলার পর কোস্টগার্ডের হেফাজতে
আলবার্টের পরিবারের বাংলাদেশে অবস্থানের ইতিহাসেও উঠে এসেছে নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার তথ্য।
ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, “গত ৮ এপ্রিল মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপ উপকূলে জলদস্যুদের হামলার শিকার হওয়ার পর পরিবারটির সদস্যরা কোস্টগার্ডের হেফাজতে ছিলেন। মঙ্গলবার নৌযানডুবির পরপরই ঢাকায় নিউ জিল্যান্ড দূতাবাসকে বিষয়টি জানানো হয়। বুধবার বিকেলে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কক্সবাজারে পৌঁছান।
“আলবার্টের মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করার পর জীবিত ৩ জনকে দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
কোস্টগার্ডের আগের তথ্য অনুযায়ী, জন এডওয়ার্ড পরিবার নিয়ে বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালে টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপরও তারা সোনাদিয়া চরে বোটসহ অবস্থান করছিলেন। সোনাদিয়ায় জলদস্যুদের হামলার আগেও পরিবারটিকে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় সমুদ্রযাত্রা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। গত ১ মার্চ তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
৮ এপ্রিল রাতে সেখানে জলদস্যুদের হামলার খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারটির সদস্যদের উদ্ধার করেন।
সেই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই আবার সমুদ্রযাত্রায় গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পরিবারটি।
কক্সবাজারে ডুবে যাওয়া নৌযান নিউ জিল্যান্ডের পরিবারটির, সেখানে থাকতেন তারা