Published : 01 May 2026, 11:05 PM
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় দুই বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধারের ১৪ দিন পর হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তারা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার চিলমারী থানার ওসি নয়ন কুমার বলেন, থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেলকে (৩০) আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পরে শুক্রবার তারা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে বিচারক মো. হাবিবুর রহমান লাইজু মিয়ার কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
নিহত শিশু মোছা. আয়শা আক্তার (২) ওই এলাকার আলমগীর হোসেনের মেয়ে।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, ১৭ এপ্রিল সকালে খেলতে গিয়ে শিশু আয়শা নিখোঁজ হয়। পরে একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আলমগীর হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন আয়শা কহিনুর বেগমের সন্তানের সঙ্গে খেলছিল। খেলার সময় আয়শার চোখে কলম দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এ সময় আয়শা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে কহিনুর বেগম এগিয়ে যান।
তিনি তখন ভয় ও আতঙ্কে আয়শার মুখ চেপে ধরেন। এর ফলে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে মারা যায়। লাশ গুম করতে তাকে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে রাখেন। পরবর্তীতে রাত হলে ও বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে লাশ পাশের জমিতে ফেলে রাখেন।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: