Published : 14 Aug 2025, 02:24 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি পণ্যবাহী ট্রাক বিকল হওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বেড়তলা থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় ও কুট্টাপাড় মোড় হয়ে শাহবাজপুর এলাকায় প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা যায়।
এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, চালক ও পথচারীরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি বালুবোঝাই ট্রাক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বর এলাকায় বিকল হয়ে যায়। তখন থেকে মহাসড়কটির ওই অংশের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল করতে শুরু করে। সড়কজুড়ে খানাখন্দের কারণে এক পর্যায়ে গাড়ি ধীরগতিতে চলতে শুরু করে। পরে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
ভোর ৫টার দিকে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটির পাশে খানাখন্দে মাটি ফেলে যান চলাচলের চেষ্টা চালায়। কিন্তু সেখান দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে আরও চার-পাঁচটি গাড়ি আটকে যায়। পরে পুলিশ সেগুলো রেকার দিয়ে উদ্ধার করে।
তারা বলছে, এভাবেই ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা চলতে থাকে। চালকেরা কার আগে কে যাবেন এমন পরিস্থিতিতে যানজট আরও দীর্ঘ গতে শুরু করে। সকাল ৮টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ প্রথমে বিকল ট্রাকটি থেকে কিছু বালু অপসারণ করে। এক পর্যায়ে ৯টার দিকে রেকার দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকটি সরিয়ে নিতে সক্ষম হয় তারা।
কিন্তু ততক্ষণে সরাইল উপজেলার বেড়তলা থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় ও কুট্টাপাড়া মোড় হয়ে শাহবাজপুর পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট লেগে যায়। এরপর যান চলাচল শুরু হলেও ধীরগতির কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। কারণ হিসেবে বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের চারপাশের সড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তকে দায়ি করেছেন চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের অর্থাৎ দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। এসব গর্তে কাদাপানি জমে তিন-চতুর্থাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন মহাসড়কের গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে থেমে যাচ্ছে।
এসব গর্ত অতিক্রম করতে গিয়ে পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চলতে হচ্ছে মাত্র এক থেকে পাঁচ কিলোমিটার গতিতে।
এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানজট কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ও সরাইল-নাসিরনগর-লাকাই আঞ্চলিক মহাসড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এসব পথে চলাচলকারী কয়েকশ নারী-পুরুষকে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে।
ঢাকা থেকে সিলেটগামী পণ্যবাহী ট্রাকচালক আলমগীর ভূইয়া বলেন, “ভোর ৪টার থেকে বসে আছি। সামনের অংশ যেতে আরও অনেক সময় লাগবে বলে মনে হচ্ছে।”
সিলেট-কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী বাস চালক রিপন মিয়া বলেন, “সিলেট থেকে সরাইল বিশ্বরোড চলে আসছি তিন ঘণ্টায়। আর জ্যামে আটকে আছি দুই ঘণ্টা ধরে।
“কুমিল্লা কখন গিয়ে পৌছাবো জানিনা। এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে একদমই মন চায়না। কিন্তু চালাতেই হয়।”
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলছিলেন, বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের গর্ত ভরাটের পাশাপাশি সড়কের পাশের অংশ সমান করে পথচারী ও যানবাহনের চলাচলের উপযুক্ত করতে পারলে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।
তিনি বলেন, “গোলচত্বরের গর্তে বারবার যানবাহন আটকে যায়। তবুও আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। বেলা ২টা নাগাদ চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।”
ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান। তবে সেটি ধীরগতিতে চলছে।
মহাসড়কের এক পাশের কাজ প্রায় শেষ হলেও বিভিন্ন স্থানে গর্তের কারণে সড়কটি যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।