Published : 13 Sep 2026, 07:34 PM
একাডেমিক সংস্কারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ-জাকসু।
রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন সংসদের নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচি থেকে থিসিসে বরাদ্দ বৃদ্ধি, একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু, গবেষণা কেন্দ্রে সার্টিফিকেট কোর্স চালু, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলের মেয়াদ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার, প্রতিবন্ধীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন পরীক্ষার শর্ত শিথিলকরণ, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ, জনবল সংকট নিরসন ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ ১৩ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় জাকসুর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসান বলেন, ৫৪ বছরেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক সংস্কার পায়নি।
প্রশাসন ‘টেন্ডারবাজি ও নিয়োগ বাণিজ্যে’ ব্যস্ত থাকলেও গবেষণা বরাদ্দ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ কম বলে দাবি করেন তিনি।
গবেষণায় বরাদ্দ অন্তত ২০ গুণ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ফেরদৌস বলেন, গবেষণা কেন্দ্র নিষ্ক্রিয়, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে অকার্যকারিতা রয়েছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললে শিক্ষার্থীদের নম্বর বঞ্চনার শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অভাবে শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ করতে ছয় থেকে আট বছর লেগে যাচ্ছে বলে দাবি করেন জাকসুর এই নেতা।
জাকসুর ১৩ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ফেরদৌস আল হাসান।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, জাকসু গঠনের আগে থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একাডেমিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল। জাকসু গঠনের পর তারা সুনির্দিষ্ট ১৩ দফা দাবি একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপন করেন। তবে সময়ের অভাবে প্রথম কাউন্সিলে এসব দাবি নিয়ে আলোচনা হয়নি।
প্রশাসন ও বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে বারবার আলোচনার মাধ্যমে সবশেষ একাডেমিক কাউন্সিলে তাদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয় এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিরও সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি।
সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্তের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মাজহারুল ইসলাম। প্রশাসন এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
কর্মসূচির শেষ দিকে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, জাকসুর দাবিগুলো একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য হওয়ায় এগুলো শিক্ষার্থীদের দাবি করার বিষয় নয় বরং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিতে এসব দাবি প্রাসঙ্গিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি বরাদ্দ ও সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়কে সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকেই সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলেন উপাচার্য।
তবে সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়াকে বর্তমান সরকারের শিক্ষামুখী মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করেন অধ্যাপক কামরুল আহসান।
বরাদ্দের সুষম বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য বলেন, প্রাধান্য ভিত্তিতে দাবি ও শিক্ষার সংকটের জায়গাগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রেখে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আরও বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করবেন তিনি। এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্যদের সমর্থনও প্রত্যাশা করেন তিনি।
এর আগে ২৮ জুলাই জাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বরাবর ১৩ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
পরদিন একাডেমিক কাউন্সিলের সভা উপলক্ষে দাবিগুলো বাস্তবায়নে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।