Published : 31 Mar 2026, 08:55 AM
ফরিদপুর সদরে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূর শরীরে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে তার স্বামীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী রতন।
দণ্ড পাওয়া রাশেদ মোল্লা (৩০) সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদহ বাজার এলাকার বাসিন্দা।
নিহত জোসনা বেগম (২১) একই উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সৈয়দ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের মেয়ে।
মামলার বরাতে পিপি রতন বলেন, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি পারিবারিকভাবে রাশেদ ও জোসনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাশেদ যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে চাপ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে দাবির মুখে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে জোসনা তার স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল বিক্রি করে রাশেদকে আরও টাকা দেন। যা দিয়ে রাশেদ মাদক সেবনে ব্যয় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরও থামেনি নির্যাতন।
তিনি বলেন, “২০২০ সালের ১৬ জুলাই আবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন রাশেদ। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের ভেতর জোসনার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন রাশেদ।
“দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”
এ ঘটনায় জোসনার বড় ভাই জলিল শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রাশেদ মোল্লার পাশাপাশি তার বড় ভাই হাসিব মোল্লাকেও আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ এসআই মো. আরিফুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রতন।
তিনি বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া আরেকটি ধারায় আসামিকে আরও তিন বছর কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাবাসে থাকতে হবে।
পিপি রতন বলেন, মামলার শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রাশেদকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার ভাই হাসিব মোল্লাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট এবং এটি সমাজে যৌতুকের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা বলে মনে করেন রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।