২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

শরীয়তপুরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাঁধে আবারো ধস, ৩০ ঘর নদীতে বিলীন

কয়েক দফায় ভাঙনে এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতু কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধের প্রায় ৭৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

শরীয়তপুরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাঁধে আবারো ধস, ৩০ ঘর নদীতে বিলীন
শরীয়তপুরের জাজিরায় নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকায় এ ভাঙনে নদীতে পড়ে যাওয়া ঘর-বাড়ি।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2025, 11:37 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:29 PM

শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতু কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধের প্রায় ১১০ মিটার অংশ ধসে পড়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ৩০টি বসতঘর। 

আরও বড় ধরনের ভাঙনের আতঙ্কে বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকালে উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকায় এ ভাঙন দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ তারেক হাসান।  

তিনি আরও বলেন, “ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং শুরু করেছি।”

তবে প্রবল স্রোত ও বৃষ্টির কারণে ডাম্পিংয়ের কাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

স্থানীয়রা জানান, একদিনের এ ভাঙনে এর মধ্যেই মাঝিরঘাট এলাকার মনোয়ার হোসেন, রিংকু মাদবর, তাজুল মাদবর, রানা মাদবর, ইমরান মাদবরের বসতঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। 

ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন বলেন, “ভোররাতে বিকট শব্দ শুনে নদীর পাড়ে এসে দেখি নদীভাঙন শুরু হয়েছে। দেখতে না দেখতে চোখের সামনেই আমার দুটি বসতঘর নদীগর্ভে চলে যায়। 

“যদি কোনোভাবে ভাঙন ঠেকানো না যায়, তাহলে বাকি সবকিছুই চলে যাবে। আমরা এ এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ চাই।

আরেক ভুক্তভোগী শাহীন মাদবর বলেন, “নদীভাঙনে আমার বসতঘর ও কাচারি ঘর নদীতে চলে গেছে। এখন কোথায় থাকব বুঝতে পারছি না। সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা চাই।”

স্থানীয় আব্দুল কাদের মোল্লার বলেন, “খবর শুনে আমি পদ্মা পাড়ে যাই। সেখানে মুহূর্তের মধ্যেই দুটি বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে দেখি।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে পদ্মা সেতু থেকে জাজিরা মাঝিরঘাট হয়ে পূর্ব নাওডোবা আলমখার কান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধটি নির্মাণ করে সেতু কর্তৃপক্ষ। দুই কিলোমিটারের বাঁধটি তৈরি করতে ব্যয় হয় ১১০ কোটি টাকা।

কিন্তু কয়েক দফায় ভাঙনে এখন পর্যন্ত এই বাঁধের প্রায় ৭৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।  

ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। তবে স্রোত বাড়ায় নদীভাঙন ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ তারেক হাসান বলেন, “স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে আগামী বর্ষার আগেই বাঁধের কাজ শুরু হবে।”

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “আমরা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করিছি। সেখানে যে পরিবারগুলো ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতা করবো। 

তিনি বলেন, “এর আগেও তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করা হয়েছিল। যারা জমি, বসতঘরসহ সব হারিয়েছেন তাদের জন্য ঘর ও জমি দেওয়া যায় কি না, তার চিন্তা করা হচ্ছে।”

পুরানো খবর

শরীয়তপুরে এবার পদ্মার ডান তীর রক্ষাবাঁধে ভাঙন, ৫ বাড়ি বিলীন

পদ্মা সেতু রক্ষা বাঁধে ধস, সংস্কার নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের ঠেলাঠেলি

শরীয়তপুরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদী রক্ষা বাঁধে ধস