Published : 17 Apr 2026, 04:50 PM
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিডে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটের ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যারা জেলখানায় বসে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন বলে ভাষ্য পুলিশের।
এ সময় তাদের কাছ থেকে লুট করা প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. রোকন মোল্লা, মো. রুহুল আমিন, মো. তসলিম প্রমাণিক, মো. আব্দুস সালাম, মো. শিহাব উদ্দিন, মো. হযরত আলী ওরফে মন্টু মোল্লা, মো. বাছেদ মণ্ডল, মো. সৈকত, মো. উজ্জ্বল মোরল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. হারন অর রশীদ, মো. নায়েব আলী এবং মো. সাইফুল ইসলাম।
শুক্রবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ২৬ মে রাতে উপজেলার বনপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হামলা চালায়।
তিনি বলেন, এ সময় সেখানে থাকা চারজন নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর করে তাদের হাত-পা ও চোখ বেঁধে রাখেন তারা। পরে প্রায় ডাকাতরা এক কোটি ৯৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও ব্যাটারি লুট করে ট্রাকে করে পালিয়ে যায়।
পরে এ ঘটনায় সিগনি ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক অনিক কুমার বিশ্বাস বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেন।
এরপর নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বড়াইগ্রাম থানা-পুলিশ যৌথভাবে নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান পুলিশ সুপার।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে আব্দুল ওয়াহাব বলেন, “গ্রেপ্তারদের মধ্যে রুহুল আমিন ও সৈকত ডাকাতির মূল সমন্বয়ক। তারা জেলখানায় বসে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।”
অভিযানে ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, ১০টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।
এ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানান জেলা পুলিশের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।
নাটোরে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড থেকে ২ কোটি টাকার মালামাল লুট