Published : 29 Jul 2026, 06:19 PM
সাংবাদিকদের নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসুর সহসভাপতি-ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে সংগঠনটির সব ধরনের সংবাদ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল তিনটি সাংবাদিক সংগঠন।
একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এবং রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (আরটিজেএ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আলাদা প্রতিবাদলিপি দিয়েছে।
বুধবার দুপুরে শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও আরটিজেএ প্রশাসনের কাছে প্রতিবাদলিপি দেয়। অপরদিকে সাংবাদিক সংগঠন তিনটিও এ ঘটনায় যৌথ বিবৃতি দেয়।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কিন্তু রাকসু ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করেছেন। এতে ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করা প্রশাসনের দায়িত্ব, কোনো ছাত্রসংগঠন বা রাকসুর নয়। অথচ রাকসু ও শিবির নেতাকর্মীরা বারবার এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
সোমবারের ঘটনাকে তারা ‘বলপ্রয়োগের নতুন নজির’ বলে উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানায় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ভিপি জাহিদ কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষপাত করার অভিযোগ করেছেন। তিনি ‘ছাত্রলীগের পক্ষে মায়াকান্না’, ‘মাথাব্যথা’ ইত্যাদি মন্তব্যের পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন।
এ ছাড়া রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিয়ে কটাক্ষ করেছেন।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকার চাওয়ার সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পথ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ট্যাগিং ও হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি।
তারা বলেন, ভিপি জাহিদ নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত সংগঠনগুলোর সদস্যরা রাকসুর কোনো কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করবেন না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে সারাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর আহসান মৃদুল বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে। সংবাদে কী শব্দ ব্যবহার করা হবে, তা ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সাংবাদিকই নির্ধারণ করবেন; কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন নয়।”
আরটিজেএ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, একজন ছাত্র প্রতিনিধির কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। তিনি যদি সংবাদকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, তবে তা মুক্ত মতপ্রকাশ ও তথ্যপ্রবাহের অধিকারের জন্য অশনিসংকেত। এ ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি।
এ সময় রাকসুর ভিপির বক্তব্য প্রত্যাহার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপের দাবিও জানায় সংগঠনটি।
সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়ে নিজের অবস্থান জানতে চাইলে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চিহ্নিত সাংবাদিকদের সঙ্গে দূরত্ব রাখা হবে এবং তাদের কোনো তথ্য দেওয়া হবে না।”
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নয়; যারা ফ্যাসিস্টদের পক্ষ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু সাংবাদিকের লেখায় আমরা আওয়ামীপ্রীতি দেখেছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম ছাত্রলীগের কর্মীদের ‘শিক্ষার্থী’ হিসেবে দাবি করলেও তাদের ক্ষেত্রে ‘জামায়াত-শিবির নেতা’ পরিচয় ব্যবহার করা হয়; যা পক্ষপাতমূলক বলে মনে করেন তিনি।
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসের কোনো শিক্ষার্থীকে আইনের হাতে তুলে দেওয়াকে আমরা সমীচীন মনে করি না। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠন সমন্বিতভাবে বিষয়গুলো দেখবে।”
কোন কোন সংবাদমাধ্যমকে ‘ফ্যাসিস্টপন্থি’ বলা হচ্ছে জানতে চাইলে ভিপি বলেন, “পত্রিকার নামগুলো আমরা তালিকাভুক্ত করছি। আপাতত প্রকাশ করছি না; পরে জানানো হবে।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাকসু ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের সমালোচনা করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন ভিপি জাহিদ।
রাবিতে ৩ শিক্ষার্থীকে আম্মার ও ছাত্রশিবিরের মারধর: 'মবের' বিচার
রাবিতে ৩ শিক্ষার্থীকে আম্মার ও ছাত্রশিবিরের মারধরের ঘটনা তদন্তে
হামলার শিকার রাবির সেই দুই শিক্ষার্থী 'ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্য