১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইবি শিক্ষক হত্যায় জড়িত ‘মাস্টারমাইন্ডকে’ গ্রেপ্তার দাবি

এ সময় রুনার চার সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Mar 2026, 06:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:06 PM

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা। 

শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সামনে নিহতদের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  

এ সময় আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, বাবা আশিকুল হক রুহুল, রুনার চার সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।  

এ সময় ইমতিয়াজ সুলতান স্ত্রী আসমা সাদিয়া রুনার হত্যার সঙ্গে জড়িত ‘মাস্টারমাইন্ড’কে চিহিৃত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। 

বুধবার বিকালে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে তার কক্ষে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও গলায় ক্ষতসহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ, প্রশাসন দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নারী শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার শিক্ষিকা রুনাকে দাফনের পর পর তার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।

‘অতীতের কিছু ঘটনা’, অফিস সহায়কের বদলি, একজন শিক্ষকের বিভাগীয় প্রধান হওয়ার ‘দুরভিসন্ধি’র পরিপ্রক্ষিতে বিভাগের তিন সহকর্মীর ‘সরাসরি প্ররোচনা ও নির্দেশনায়’ একজন কর্মচারী কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

তিন সহকর্মীর দুজন শিক্ষক; তারা হলেন- বিভাগের সাবেক প্রধান সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। অপরজন বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার এবং বর্তমানে উম্মুল মোমেনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস।

আর কর্মচারী হলেন খন্দকার ফজলুর রহমান। তিনি সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক মাস্টার রোলের কর্মচারী। ২০১৮ সাল থেকে তিনি সেখানে কাজ করছেন। সম্প্রতি তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বদলি করা হয়।

মামলার প্রধান আসামি ফজলু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের শান্তিডাঙ্গা গ্রামের হামিদুর রহমানের ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

আসমা সাদিয়া রুনা দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরের আশিকুল হক রুহুলের মেয়ে। তার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন শিক্ষক। এই দম্পতির তিন মেয়ে ও এক ছেলে। তারা কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকার মীর মশাররফ হোসেন সড়কে থাকেন।

আরও পড়ুন:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যার তদন্তে কমিটি 

ইবির শিক্ষক হত্যার বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে

ইবি শিক্ষক রুনার দাফন, তিন সহকর্মী ও কর্মচারীর নামে হত্যা মামলা

ইবি শিক্ষক রুনা খুন কর্মচারীকে বদলির জেরে?

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নারী শিক্ষক খুন