Published : 16 Mar 2026, 01:09 PM
মানিকগঞ্জ সদরে একটি বিউটি পার্লারের কর্মীকে মারধর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে মালিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার বিকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি ইকরাম হোসেন জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন-সদর উপজেলার পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রামের রত্না ইয়াছমিন, তার ছেলে মো. তুষার রহমান ও বাইচাইল গ্রামের জহিরুল ইসলাম টিপু।
ওসি ইকরাম বলেন, এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যার পর ভুক্তভোগী তরুণী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে যাচাই-বাছাই শেষে রোববার অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় এলজিইডি কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ‘রাইসা বিউটি ঘর’ নামের একটি পার্লারে চাকরি করতেন ভুক্তভোগী তরুণী।
পার্লারের মালিক রত্না ইয়াছমিন পার্লারের আড়ালে সহযোগীদের সঙ্গে অবৈধ কার্যক্রম চালাতেন এবং সেখানে কর্মরত ওই তরুণীকেও এই কাজে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
ভুক্তভোগী তরুণী উল্লেখ করেন, গত ১১ মার্চ তার ছোট বোন (১৩) উত্তর সেওতা এলাকার তার ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসে। এ সময় পার্লারের মালিক ও তার সহযোগীরা ওই কিশোরীকেও অবৈধ কার্যক্রমে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়।
এতে তিনি রাজি না হওয়ায় ১৩ মার্চ রাত ১টার দিকে আসামিরা তার বাসায় গিয়ে তাকে ও তার বোনকে আবারও একই প্রস্তাব দেয়। তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
এক পর্যায়ে পার্লারে ব্যবহৃত কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেয় এবং মুখে কালো কালি লাগিয়ে অপদস্থ করে।
পরে মেয়েটির দুই বন্ধু বিষয়টি জানতে পেরে মানিকগঞ্জ সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে রত্না ইয়াছমিনসহ তিন জনকে আটক করে। এ সময় অন্য আসামিরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে ওসি ইকরাম হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।