বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ আসনে জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
প্রায় ১৯ বছর পর জন্মস্থান বগুড়ায় আসছেন তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রার্থীও হয়েছেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে নিজ আসনে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রস্তুত করা হচ্ছে সভা মঞ্চ। সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি।
বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক হিরু চৌধুরী বলেন, সমাবেশ ঘিরে শহরে নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আগমন ঘটবে। তিল ঠাঁই থাকবে না। মাঠ ছাড়াও বিভিন্ন সড়কে লোকজনের ভিড় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর গত ১১ জানুয়ারি তারেক রহমানের বগুড়া আসার খবরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে শহরের বনানী থেকে মাটিডালী পর্যন্ত নয় কিলোমিটার সড়ক বিভাজনের গাছে রং করা হয়। জজ কোর্টের সামনে তিন মাথায় ঘোড়ার ভাস্কর্য রং করা হয়। ১৯ বছর আগে যখন তারেক রহমান নিয়মিত বগুড়ায় আসতেন তখন শাকপালা তিন মাথায় একটি পার্ক শুরু করেছিলেন। সেটিও নতুন করে সাজানো হয়েছে।
এ ছাড়া তারেক রহমান শহরের সূত্রাপুরে বাসাটিও নতুন করে সাজানো হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে না উঠে তিনি বগুড়ার প্রথম ফোর স্টার হোটেল নাজ গার্ডেন উঠবেন বলে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন।
তবে বগুড়ায় প্রবেশের আগে বৃহস্পতিবার রাজশাহী ও নওগাঁয় নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে ফিরে বগুড়ায় রাত্রিযাপন করবেন তিনি। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান।
নাজ গার্ডেনের মালিক সাবেক বিএনপি নেতা শোকরানা বলেন, “বিকাল ৫টার আগেই হোটেলের সব লোকজন খালি করা হবে। দর্শনার্থী এবং অন্য কোনো বর্ডার রাখা হবে না।”
বিএনপির মিডিয়া সেল রাজশাহী-রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারেক রহমান রাজশাহী ও নওগাঁ হয়ে বগুড়ায় জনসভা করবেন। রাতে তিনি বগুড়ায় অবস্থান করবেন। শুক্রবার তিনি বগুড়ায় থেকে সদর ও গাবতলীতে জনসংযোগ করবে।
“এরপর বাবা জিয়াউর রহমানের বাড়ি বাগবাড়িতেও যাবেন তিনি। শনিবার যেকোনো সময় উত্তরের পথে নির্বাচনি প্রচারে চলে যাবেন তারেক রহমান।”
প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, “বুঝেনইতো বগুড়ার মানুষের ভালোবাসা এবং তিনি (তারেক রহমান) বগুড়াকে ভালোবাসেন, এটা একটা আবেকের জায়গা।”
তিনি বলেন, “নিজের জেলায় তারেক রহমানের শিডিউল থাকতে না পারে। জনসংযোগ এবং নিজের ইচ্ছায় আরও কিছু অনুষ্ঠান করতে পারেন কিংবা অন্য কোনো জায়গাতেও যেতে পারে তিনি।”
তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে নেতাকর্মীর পাশাপাশি বগুড়াবাসীও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। তিনি বলেন, তাকে (তারেক রহমান) এক নজর দেখার জন্য বগুড়ায় মানুষের ঢল নামবে।
বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম এবং বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, নেতা আসছেন। নিজেদের প্রচারের প্রয়োজন নেই। নেতার আগমন এবং ভাষণে বগুড়ার সাতটি আসনেই বিএনপি বিজয়ী হবে।
অবহেলিত বগুড়ার উন্নয়নে তারেক রহমান মাইল ফলক হয়ে বগুড়াবাসীর অন্তরে আজীবন থাকবেন বলে মনে করেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।
জিয়া পরিবারের স্বজন বাগবাড়ীর স্বরন তালুকদার বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বাগবাড়ীর ঘড়বাড়ি সাজানো হয়েছে। এখানে তার বাবার স্মৃতি রয়েছে। সেই স্মৃতি অবলোকনের পাশাপাশি স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলবেন তারেক রহমান।
সবশেষ ২০০৬ সালে বগুড়ায় এসেছিলেন তারেক রহমান। সেই সময় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তিনি। তখন মার গাড়ি চালিয়ে নিয়ে এসেছিলেন তারেক রহমান।
