Published : 15 Jan 2024, 05:48 PM
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ধর্ষণ মামলায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান জানান, সোমবার বিকালে গ্রেপ্তার মো. শাকিল সরদার ওরফে ফেরদাউসকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ২৫ বছর বয়সী শাকিল ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাড়িয়া গ্রামের মোস্তাব সরদারের ছেলে এবং ফরিকহাট আজহার আলী ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
ভুক্তভোগী তরুণীদের একজনের বয়স ২১ এবং আরেকজনের ২৫ বছর; তাদের বাড়িও ফকিরহাট উপজেলায়। তাদের একজন বাদী হয়ে রোববার রাতে ফকিরহাট থানায় শাকিলসহ দুইজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার আরেক আসামি ২০ বছর বয়সী মেহেদী হাসান পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন জানান, শাকিল ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির পদে ছিলেন। সংগঠন বর্হিভূত ও অসামাজিক কার্যক্রমে লিপ্ত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর বলেন, ওই দুই তরুণী ঢাকায় একটি কফিশপে চাকরি করেন। গত ১১ জানুয়ারি ছুটিতে বাড়ি আসেন তারা। দুদিন পর বিকালে তারা তাদের এক চাচাতো ভাই ও তার এক বন্ধুর সঙ্গে দুটি মোটরসাইকেলে করে বেড়াতে বের হন। প্রথমে তারা রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘুরে হযরত খানজাহান (রহ.) মাজারে যান। সেখান থেকে ফিরতে দেরি হওয়ায় তারা খুলনায় আরেক বান্ধবীর বাড়িতে রাতে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
পরে চাচাতো ভাই ও তার বন্ধুর মোটরসাইকেলে করে ওই বান্ধবীর বাড়ির পথে রওনা দেয় তারা। পথে ফকিরহাটের জাড়িয়া এলাকায় শাকিল ও মেহেদী তাদের গতিরোধ করে চাচাতো ভাই ও তার বন্ধুকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তারা ভয়ে দুই তরুণীকে ফেলেই পালিয়ে যায়।
পরে দুই বান্ধবীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে শাকিল একজনকে এবং মেহেদী আরেকজনকে পাশের আরেকটি দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে জানান রাসেলুর।
তিনি বলেন, “ধর্ষণের পর ওই দুইজন বেশকিছু নগদ টাকা ও স্বর্ণের নাকফুল ছিনিয়ে নিয়ে দুই বান্ধবীকে মোটরসাইকেলে তুলে একটি রাস্তার পাশে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের চাচাতো ভাই ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ দিলে পুলিশ তাদের ধরতে অভিযানে নামে।
“শাকিলকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে দুই তরুণীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়।”
মামলার আরেক আসামি মেহেদীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।