২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ২০ বাড়ি ভাঙচুর, আহত ৮

আশাশুনি উপজেলা নির্বাচনে ফল ঘোষণার রাতে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2024, 04:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:37 AM

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।

সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানান সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মতিউর রহমান সিদ্দিকী। 

আহতদের মধ্যে তিনজনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আটকরা হলেন- পিরোজপুর গ্রামের আব্দুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ ও জাহাঙ্গীর হোসেন। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মোস্তাকিম চিংড়ী মাছ প্রতীকে ৫১ হাজার ৬৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহনেওয়াজ ডালিম ঘোড়া প্রতীকে ৫০ হাজার ৭০৭ ভোট পেয়েছেন।

পরাজিত প্রার্থী শাহনেওয়াজ ডালিম বলেন, “মোস্তাকিমের কর্মী পিরোজপুর গ্রামের মিলন পারভেজের নেতৃত্বে দেশি অস্ত্র নিয়ে একই গ্রামের রিপন হোসেনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে একই গ্রামের আনারুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলামের বাড়িসহ বেশ কয়েকজনের বাড়ি তছনছ করে তারা।

“বুধবার সকালে কাদাকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দীপঙ্কর সরকার দ্বীপ, তেতুলিয়া গ্রামের সাইফুর রহমান, লিটন সরদার, প্রতাপনগরের আব্দুস সামাদের বাড়িসহ কমপক্ষে ২০ জনের বাড়ি ভাঙচুর করে মোস্তাকিমের সমর্থকরা।”

প্রতিপক্ষের হাতুড়ি পেটায় চেউটিয়া গ্রামের আনিচুর রহমান ও তুয়ারডাঙ্গা গ্রামের ইমরান হোসেনসহ কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন বলে দাবি পরাজিত প্রার্থী শাহনেওয়াজের।

এটা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নয়; এটি মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দাবি করে বিজয়ী মোস্তাকিম বলেন, “নির্বাচনে হেরে শাহনেওয়াজের কর্মী-সমর্থকরা গুনাকরকাটি গ্রামের মোশাররফ হোসেন, গদাইপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ ও বামনডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যান জগদীশ সানার বাড়ি ভাঙচুর করেছে।”

পুলিশ সুপার মতিউর রহমান সিদ্দিকী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সহিংসতার ঘটনায় পিরোজপুর গ্রাম থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে; ভাঙচুরের ঘটনায় আলাদা আলাদা মামলা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।