অপহরণ-টাকা লুটের মামলায় লালমনিরহাটে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার মোমছেদুল খান বুলবুল (৩৫) কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় অপহরণ, ডাকাতি এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা লুটের মামলায় এক বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তার মোমছেদুল খান বুলবুল (৩৫) কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব এবং উপজেলার উত্তর মুশরাত মদাতী এলাকার রকিবুল খানের ছেলে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, র্যাব-১৩ এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে শনিবার সকালে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। রিমান্ডের আবেদনসহ তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারের বরাতে পুলিশ জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে মামলার বাদী রবিউল ইসলাম ও প্রধান সাক্ষী মিস্টার আলী মোটরসাইকেলে চাপারহাট বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গুরুদয়াল চৌপথি মোড়ে বুলবুল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের পথরোধ করে। পরে তাদের অপহরণ করে বুলবুলের একটি মুরগির খামারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে ভোররাত পর্যন্ত আটকে রেখে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে আসামিরা রবিউলের কাছে থাকা নগদ তিন লাখ চার হাজার টাকা ও মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। এ ছাড়া প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে আট লাখ ২৪ হাজার ১০৭ টাকা স্থানান্তর (ক্যাশ আউট/সেন্ড মানি) করে নেয়।
পরদিন ভোরে বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে এবং জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল বুলবুলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন রবিউল ইসলাম। মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন বুলবুল।
পুলিশ জানায়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে বুলবুলকে আগেই ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
পুলিশের অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) অনুযায়ী, বুলবুলের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা এবং সদর থানায় ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলার অভিযোগপত্র এরই মধ্যে আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
