১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শেষ হয়নি উড়াল সড়ক, গাইবান্ধার সেই ২ কিলোমিটারে যানজটের শঙ্কা

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ অংশে ১৫-২৫ মার্চ পর্যন্ত ছয় লেন ও উড়াল সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কথা বলেছে জেলা প্রশাসন।

বিডিনিউজ২৪

তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Mar 2026, 09:19 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:10 PM

ঢাকা-রংপুর ছয় লেন জাতীয় মহাসড়কের ৩২ কিলোমিটার পড়েছে গাইবান্ধা জেলায়। দক্ষিণে গোবিন্দগঞ্জের ফাঁসিতলা থেকে উত্তরে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট পর্যন্ত এ পথ বিস্তৃত।

এর মধ্যে উপজেলার পান্তাপাড়া থেকে গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় উড়াল সড়ক, র‌্যাম নির্মাণ এবং ছয় লেন উন্নয়ন কাজ চলমান আছে। এতে এবারের ঈদযাত্রায় এ পথে যানজটের আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।

তবে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৫ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ অংশে ছয় লেন ও উড়াল সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কথা বলেছেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

এ ছাড়া যানজট নিরসনে হাইওয়ে, থানা ও ট্রাফিক পুলিশ, আনসার সদস্য, স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে ১০টি দল এ পথে সর্বক্ষণিক কাজ করবে বলে জানিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন।

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তানজিমুল ইসলাম। তার বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর। তিনি বাসে এ মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, “প্রায় প্রায়ই যানজটের কারণে গোবিন্দগঞ্জে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আসন্ন ঈদে এ যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।”

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরের ব্যবসায়ী গোপাল মহন্ত বলেন, প্রায় এক বছর আগে শুরু হলেও চৌরাস্তার দুই পাশে মহাসড়কের ছয় লেন উন্নয়ন ও উড়াল সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এসব নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এসকেভেটর (ভেকু) ও সিমেন্ট মিকচার মেশিন এবং বালু, রড় ও পাথর পরিবহনে ট্রাক। এ কারণে এ অংশে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, ঈদে মহাসড়কে আরও বাড়তি পরিবহনের চাপ থাকবে। ফলে এ অংশে যানজট ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষজনকে ভোগাবে।

স্থানীয় সংবাদকর্মী ফারুক হোসেন বলেন, উড়াল সড়কের নির্মাণ কাজের জন্য সড়কের মাঝ বরাবর বেশ কিছু অংশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এর দুই পাশে সরু সড়ক ধরে এ অংশে এখন যানবাহন চলাচল করে।

তার ওপর আবার নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে সড়কে। এসব কারণে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে প্রায়ই যানজটে নাকাল হচ্ছে যানবাহন, পথচারী এবং স্থানীয়রা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্ত:যোগাযোগে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় ‘সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক করপোরেশন-সাসেক’। এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ হাতে নেওয়া হয়।

গাইবান্ধা অংশের কাজের দায়িত্ব পায় চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন-সিএসসিইসি’। ২০১৮ সালে এ অংশের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়।

কথা ছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হবে। কিন্তু এখনও শেষ হয়নি কাজ। অপরদিকে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ এলাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত বছর; যা এখনও চলমান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গোবিন্দগঞ্জে উড়াল সড়ক নির্মাণ দৃশ্যমান হয়েছে। নির্মাণাধীন এ অংশে ফ্লাইওভারের দুপাশে সরু সড়ক দিয়ে বর্তমানে যানবাহন যাতায়াত করছে। এ কারণে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন গোবিন্দগঞ্জে এসে আটকে যাচ্ছে।

একইভাবে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোও থেমে যাচ্ছে। আবার চৌরাস্তার থানা মোড় থেকে একটি সড়ক পশ্চিমে দিনাজপুরের দিকে গেছে। পূর্ব দিকে গেছে গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়ক। ফলে চারদিক থেকে আসা যানবাহন ধীরগতিতে চৌরাস্তা অতিক্রম করছে।

এ পথে চলাচলকারী বাস চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ মহাসড়ক দিয়ে গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সব যানবাহন চলাচল করে।

তিনি বলেন, এ মহাসড়কের ছয় লেনের কাজ সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও রংপুর অংশে প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ফলে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলো খুব দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরে ঢুকে পড়ে।

“আবার দিনাজপুর ও রংপুরসহ উত্তরের আট জেলার যানবাহনগুলোও দ্রুত চলে আসে। কিন্তু মাঝপথে গোবিন্দগঞ্জে ছয় লেন মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ ও উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান আছে। এ অংশটুকুর সড়ক এখন বেশ সরু। এতে করে উভয় দিক থেকে আসা যানবাহনের চাপে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়”, বলেন বাস চালক রফিকুল।

আরেক বাস চালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঈদে মহাসড়কে ঘরে ফেরা মানুষের প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও পোশাক শ্রমিকদের রিজার্ভ করে নিয়ে আসা বাসের বাড়তি চাপ থাকে।

অপরদিকে মহাসড়কের দুপাশে যাত্রীর জন্য অপেক্ষায় থাকা ইজিবাইক, অটোরিকশা ও রিকশা-ভ্যানের চাপে গোবিন্দগঞ্জ এক যানজটের শহরে পরিণত হয় বলে জানান তিনি।

তবে ঈদকে সামনে রেখে গোবিন্দগঞ্জ যানজটমুক্ত রাখতে পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে জানান গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোস্তফা আল মামুন।

তিনি বলেন, “যানজটমুক্ত রাখতে এ অংশে নয়জন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা, থানা-পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করবেন।”

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ঈদে যাতে গোবিন্দগঞ্জ যানজটমুক্ত থাকে এবং উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন, এ জন্য ৩০ থেকে ৪০ জন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করবেন।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ১৫-২৫ মার্চ পর্যন্ত গোবিন্দগঞ্জে মহাসড়কে ছয় লেন ও উড়াল সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হবে। এ ছাড়া গোবিন্দগঞ্জ চৌরাস্তায় পুলিশ বক্স স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও মাইকিং ব্যবস্থা চালু রাখা হবে।