২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহ হাসপাতালের বিছানায় ছারপোকা, স্বজনদের বিক্ষোভ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুরা ছারপোকার কামড়ে আরও অসুস্থ হচ্ছে বলে দাবি স্বজনদের।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Sep 2024, 07:55 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:18 PM

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের বিছানায় ছারপোকার উপদ্রব বেড়েছে। ছারপোকার কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা আরও বেশি অসুস্থ হচ্ছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ গেইটের পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চরপাড়ায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্বজনরা। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

পরে হাসপাতালের পরিচালকের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন বলে জানান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক চিকিৎসক জাকিউল ইসলাম।

স্বজনদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেখ রাসেল স্ক্যানু (এনআইসিইউ) ওয়ার্ডের বেডে সম্প্রতি ছারপোকার উপদ্রব বাড়লেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকদের একাধিকবার জানান।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা ছারপোকার কামড়ে আরও বেশি অসুস্থ হচ্ছে। এতে অনেক শিশু মারাও গেছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি শিশুর স্বজনরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাফিজুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে তার সাত দিন বয়সি শিশু নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। এর মধ্যে অনেক শিশু মারাও গেছে। যারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে তাদের শরীরেও ছারপোকা কামড়ের চিহ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের বারবার বলেও কোনো কাজ না হওয়ায় বিক্ষোভ করছেন তারা।

রোগীর অভিভাবক নাদিরা আক্তার বলেন, “শিশু বেশি অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শিশু কেমন আছে সে বিষয়টি জানতেও অনেক বেগ পোহাতে হয়। ছারপোকার কারণে অসুস্থ শিশুরা আরও বেশি অসুস্থ হচ্ছে।

“প্রত্যেক বিছানায় শত শত ছারপোকা দেখা যায়। এতে শিশুদের রক্তশূন্যতাও দেখে দিচ্ছে। দ্রুত বিছানাগুলো পরিবর্তন করা দরকার।”

চিকিৎসক জাকিউল ইসলাম বলেন, ৫০ শয্যার নবজাতক ওয়ার্ডে ১৫০ থেকে ২০০ রোগী গড়ে ভর্তি থাকে। একসঙ্গে সব বেড পরিবর্তন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতটি বেড পরিবর্তন করে ছারপোকামুক্ত ওয়ার্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিচালক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন বলে জানান তিনি।