১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সৌদিতে অপহরণের পর খুন’: লক্ষ্মীপুরে দাফনের দুই মাস পর লাশ উত্তোলন

সৌদি আরবে অপহরণের পর প্রবাসীকে হত্যার অভিযোগে স্বজনদের করা মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Dec 2025, 04:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:16 PM

লক্ষ্মীপুর সদরে হত্যা মামলার তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে দাফনের দুই মাস পর আদালতের নির্দেশে এক সৌদি আরব প্রবাসীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, সৌদি আরবে তাকে অপহরণের পর হত্যা হরা হয়।

সোমবার সকালে উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের মতলবপুর গ্রামে বাড়ির পাশে কবর থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয় বলে জানান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভি দাশ।

মৃত মহসিন কবির ওই গ্রামের মাওলানা মো. নুরুল্লাহর ছেলে। সৌদি আরবে তাকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে স্বজনদের করা মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মৃতদেহ উত্তোলনের সময় নির্বাহী হাকিম অভি দাশের সঙ্গে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার এসআই মোবারক হোসেনের উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বরাতে এসআই মোবারক বলেন, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি নিয়ে সৌদি আরব যান মহসিন। সেখানে পৌঁছার পর মালিক মোরশেদ আলমের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে তার দ্বন্দ্ব হয়। দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে। 

এর মধ্যে চলতি বছরের ১৭ অগাস্ট মহসিন সৌদি আরবে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল। ঘটনার কয়েকদিন পর মহসিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে সৌদির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২ সেপ্টেম্বর তার লাশ দেশে আসে। 

মৃতদেহ গ্রহণের সময় স্বজনদের সন্দেহ করে মহসিনের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করেন স্বজনরা। 

পরে ২২ অক্টোবর মহসিনের স্ত্রী রওশন আক্তার বাদী হয়ে মোরশেদ আলমসহ চারজনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

আসামি মোরশেদ সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের হাসন্দি এলাকার প্রয়াত সিরাজ উল্যার ছেলে। অন্য আসামিরা হলেন- মোরশেদের স্ত্রী রোকসানা আক্তার, আত্মীয় মো. হাছিব এবং মো. রায়হান। তারাও হাসন্দি এলাকার বাসিন্দা। 

প্রতিবেশী আবু সাঈদ বলেন, “মহসিন যার কাছে সৌদি গেছে, সেই তাকে অপহরণ করে হত্যা করিয়েছে। তার স্বাভাবিক মৃত্যুর যে ময়নাতদন্ত দিয়েছে, তাতে আমাদের সন্দেহ হয়। পরিবারের লোকজন, সৌদিতে থাকা স্বজন ও বাংলাদেশ দূতাবাসকে না জানিয়ে দেশে লাশ পাঠানো হয়। এজন্য আমাদের মোরশেদকে সন্দেহ হয়। তাই স্বজনরা মামলা করেন।” 

নির্বাহী হাকিম অভি দাশ বলেন, আদালতের নির্দেশে মহসিনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ ফের দাফন করা হবে। লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।